এক বছরে জাকসুর পথচলা, অর্জন-সীমাবদ্ধতার হিসাব
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) তাদের এক বছরের কার্যক্রম, অর্জন ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে জাকসুর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত পরবর্তী নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাকসুর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত এক বছরের সামগ্রিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
.png)
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৩৩ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে জাকসুর পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর গত এক বছরে শিক্ষার্থীবান্ধব, একাডেমিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও কল্যাণমুখী ছাত্ররাজনীতির চর্চায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত এক বছরে একাডেমিক সংস্কার, অটোমেশন, মেডিকেল সেবার আধুনিকায়ন, পরিবহন সংকট নিরসন, শতভাগ আবাসন নিশ্চিতের দাবি, র্যাগিং-বুলিং প্রতিরোধ, মাস্টারপ্ল্যান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রসার, খাবারের মানোন্নয়ন, গ্রন্থাগারের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাসের ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা বিকাশে গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষা, উপস্থাপনা ও ক্যারিয়ারবিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া ৭০০-এর বেশি চাকরির সুযোগ নিয়ে জব ফেয়ার, উদ্যোক্তা মেলা, টিউশন প্রোভাইডিং ওয়েবসাইট, উদ্যোক্তা ওয়েবসাইট, রক্তদান ওয়েবসাইট ও শিক্ষক মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে সাহিত্য ম্যাগাজিন, জুলাই ম্যাগাজিন, নাট্য ম্যাগাজিন, সাহিত্য কর্মশালা, দিবসভিত্তিক আলোচনা ও স্মারকসভাসহ বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন ও কল্যাণে আবাসিক হলগুলোতে সুপেয় পানির ফিল্টার ও কম্পিউটার সরবরাহ, রিলিজিয়াস লাইব্রেরি স্থাপন, অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সংগঠনের জন্য কম্পিউটার প্রদান এবং বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা সংরক্ষণ এবং জুলাইয়ের হামলার বিচার নিয়েও জাকসু অবস্থান নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে জাকসু। প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা, প্রশাসনিক রদবদল, বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বার্থসংশ্লিষ্ট জটিলতার কারণে কাজের গতি ধীর হয়েছে বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া জাকসু ভবনের সংস্কার শপথগ্রহণের প্রায় এক মাস পর শুরু হওয়া, প্রত্যেক সম্পাদকের জন্য যথাযথ কর্মপরিসর নিশ্চিত করতে না পারা এবং প্রয়োজনীয় কম্পিউটার অপারেটর ও পর্যাপ্ত কর্মচারী না থাকাকেও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাকসুর সাফল্য শুধু অনুষ্ঠান, প্রকল্প বা দাবি আদায়ের সংখ্যার মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা, অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা, অধিকারবোধ এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি কতটা তৈরি করা গেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
জাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়, জাকসু কোনো ব্যক্তি বা কমিটির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান। গত এক বছরে জাকসু কতটা সফল বা ব্যর্থ—তার মূল্যায়নের ভার শিক্ষার্থীদের ওপরই দেওয়া হয়েছে।
এ সময় জাকসুর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত পরবর্তী নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়। নির্বাচন, জবাবদিহি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও কল্যাণমুখী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গত এক বছরে জাকসুর পাশে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।