ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ কৃষি ও প্রকৃতি ]

শহরের পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ছাদ কৃষি

সাইফুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম
প্রকাশিত: ১৩:৩১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শহরের পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ছাদ কৃষি
যথাসম্ভব রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার থেকে বর্জন করবো। ছাদের এসব ছোট পরিসরের বাগানগুলোতে জৈব সার ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো হবে। প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে যাঁরা কৃষি নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ নেব।

ছাদ কৃষি (Rooftop Farming) শুধু শখের বিষয় নয়; এটি ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন— খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে — শহরে সীমিত জায়গায় নিরাপদ ও তাজা সবজি-ফল উৎপাদন সম্ভব হয়।

সবুজে শ্যামলে ভরপুর প্রকৃতি বাংলার চিরাচরিত রূপ, সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্য। শহুরে দালানের ছাদেই নূতনভাবে শুরু হয়েছে এই সবুজায়ন। ফুল, ফল, শাক-সবজিসহ সবকিছুই এখন চাষ হচ্ছে বাসার ছাদে; টবে, নির্ধারিত অবকাঠামোতে, ড্রামে, বালতিতে, ট্রে-তে। কেউ এসব করছেন শখের বশে, কেউ অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে। 

Advertisement

জনপ্রিয় ছাদ কৃষি কি ভাবে করবেন বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে  বাড়ির ছাদে বাগান করা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির ছাদের ...

এতে করে নিজের ছাদ বাগান থেকে প্রাপ্ত ফল ও শাক-সবজির মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কেউ কেউ এসব বিক্রি করে আর্থিকভাবে প্রচুর লাভবানও হচ্ছেন। শহরের পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এসব ছাদ বাগানের ভূমিকা অপরিসীম।  

- পরিবারের ব্যয় কমায় — প্রতিদিনের সবজি ও কিছু ফল নিজেরাই উৎপাদন করতে পারায় বাজারের ওপর নির্ভরতা কমে।
- পরিবেশ রক্ষা করে — গাছপালা কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন বাড়ায় এবং বায়ুদূষণ কমাতে সহায়তা করে।
- শহরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে — ছাদে সবুজায়ন ভবনের তাপ শোষণ কমিয়ে নগরীর তাপদ্বীপ (Urban Heat Island) প্রভাব হ্রাস করতে পারে।
- বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক — গাছ ও মাটি বৃষ্টির কিছু পানি ধরে রাখে, ফলে জলাবদ্ধতার চাপ কিছুটা কমে।
- কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি করে — বাণিজ্যিক ছাদ কৃষি নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় — গাছের পরিচর্যা মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং চাপ কমাতে সাহায্য করে।
- জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে — মৌমাছি, প্রজাপতি ও উপকারী পাখির আবাস তৈরি হয়, যা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
- জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে — স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে খাদ্য আমদানির চাপ কমতে পারে এবং দেশের অর্থ সাশ্রয় হয়।
- সবুজ ও সচেতন জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে — ছাদ কৃষি মানুষকে প্রকৃতিপ্রেমী, আত্মনির্ভরশীল এবং পরিবেশ সচেতন হতে উৎসাহিত করে।

এই সময়ের জনপ্রিয় ছাদ কৃষি কি ভাবে করবেন ??? (আনুরুধের পোস্ট) বর্তমানে  রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বাড়ির ছাদে বাগান করা বেশ জনপ্রিয়তা ...

ছাদ বাগানে আমরা যা যা লাগাতে পারি :
 ১. ফুলের গাছ। গোলাপ, জবা, হাসনাহেনা, কাঠগোলাপ, বেলি, অলকানন্দাসহ মৌসুমি ফুলের মধ্যে কসমস, গাঁদা, কাঁটা মুকুট, চন্দ্রমল্লিকাসহ ছোট ও মাঝারি আকৃতির গাছ হয়, এমন প্রায় সবধরনের ফুলের চাষই ছাদে করা যাবে।

এগুলো চাষের জন্য পূর্বে তৈরি অবকাঠামো, প্রয়োজন অনুযায়ী মেটে বা প্লাস্টিকের টব, ছোট বা বড় বালতি, ড্রাম, ট্রে ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে করা পারে। এসব পাত্রে দোআঁশ মাটি আর পঁচা গোবরের মিশেলে প্রথমে মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে। ফুল গাছ লাগনোর পর নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করতে হবে।

২. সবজির চাষ। টমেটো, বেগুন, পেঁপে, পুঁইশাক, বাধাকপি, ফুলকপি, শিম, করল্লা, কাঁকরোল, ঝিঙে, ঢেঁরস, লালশাক, ডাটা, লাউশাক, কুমড়া, লেবুসহ আরও অনেক মৌসুমি শাকসবজি চাষ করা যেতে পারে।

এসব চাষের জন্যও প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি বা প্লাস্টিকের টব, ছোট বা বড় বালতি, ড্রাম, ট্রে ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। এই পাত্রগুলোতে দোআঁশ মাটি আর পঁচা গোবর মিশিয়ে প্রথমে মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে। 

  • গাছ লাগনোর পর নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করতে হবে। শিম, লাউ, পুঁইশাক, ঝিঙে ও কুমড়া গাছের জন্য সুতা দিয়ে ছাদের রেলিং বা টবে ছোট ছোট খুঁটি দিয়ে মাঁচা তৈরি করে দিতে হবে এবং নিচ থেকে বেয়ে উঠার জন্য এগুলোর টবে ছোট ছোট খুঁটি পুঁতে দিতে হবে। 

৩. ফলের চাষ। ছাদে আমরা ড্রাগন, স্ট্রবেরি, কমলালেবু, ডালিম, জামরুলসহ নানা মৌসুমি ফলের চাষ করতে পারি। যেমন কলমজাত আম, লিচু ও কুলের চারা, পেয়ারার চারা ইত্যাদি রোপণ করতে পারি।

এগুলো জন্যও প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি বা প্লাস্টিকের টব, ছোট ও বড় বালতি, ড্রাম, ট্রে ইত্যাদি ব্যবহার করবো। এসব পাত্রে দোআঁশ মাটি আর পঁচা গোবর মিশিয়ে প্রথমে মাটি প্রস্তুত করে নেব। ফল গাছ লাগনোর পর নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করব। 

জনপ্রিয় ছাদ কৃষি কি ভাবে করবেন বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে  বাড়ির ছাদে বাগান করা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির ছাদের ...

ছাদে লাগানো ফুল, ফল বা সবজির টব বা অন্যান্য পাত্রগুলোর কারণে যেন ছাদ স্যাঁতসেঁতে বা অন্য কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এসব পাত্রের নিচে লোহার রিং বা ইট বিছিয়ে দিতে হবে।

  • টবের অতিরিক্ত পানি যাতে গাছের ক্ষতির কারণ না হয় সেজন্য টবের নিচের দিকে প্রয়োজন অনুযায়ী ফুটো করে রাখতে হবে, যেন অতিরিক্ত পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ঝরে যেতে পারে। 

যথাসম্ভব রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার থেকে বর্জন করবো। ছাদের এসব ছোট পরিসরের বাগানগুলোতে জৈব সার ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো হবে। প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে যাঁরা কৃষি নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ নেব।

ছাদ বাগান বিষয়ে একটি সুন্দর ও মানসম্মত গাইড বা ম্যানুয়েল থাকলে সবার জন্য উপকারী পদক্ষেপ হবে। তবে ছাদ বাগান বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার যে ছাদকে যেন জঙ্গল করে ফেলা না হয় বা জনবহুল শহুরে জীবনে ছাদে একটু হাঁটাচলার সামান্য সুযোগটিও যেন আমরা নষ্ট করে না ফেলি, সেদিকে খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। একজনের ছাদ বাগান কোনোভাবেই যেন অন্যের বসবাসের কোনো অসুবিধার কারণ না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

  • কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Bisuddhotar Sondhane
ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!