লোনা জমিতে সোনা
খুলনার কয়রা উপজেলা। নদী বেষ্টিত এ উপজেলার চারদিকে রয়েছে লোনা পানি। আর এ লবণাক্ততা এখানকার একটি বড় সমস্যা। তবু লোনা জমিতে সোনা ফলাচ্ছেন কৃষকরা। উপজেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে এবার মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলার আমাদী ইউপির পাটুলিয়া গ্রামের কৃষক চণ্ডিপদ মণ্ডল বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করে ভালো ফলন হয়েছে। কাঠাপ্রতি প্রায় তিন মণ করে আলু পেয়েছি। প্রতি কেজি আলু জমি থেকেই ১৩ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এতে খরচের চেয়েও দ্বিগুণ লাভ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমনের পরে মিষ্টি আলুর চাষ শুরু হয়। এতে খরচ তেমন নেই। গাছের ডগা কেটে মাটিতে পুঁতে দিলেই হয়। সেই গাছের ডগায় ভরে যায় ক্ষেত।
.png)
একই গ্রামের আসাদুল গাজী, ইসমাইল সানা, কালিপদ মণ্ডল, ব্রতী মণ্ডল, খোকন মণ্ডলসহ অনেকেই মিষ্টি আলুর চাষ করে লাভবান হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলার পাটুলিয়া গ্রামে মিষ্টি আলুর বেশ চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছরই এখানকার মানুষ মিষ্টি আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা অনেক খুশি। তবে সেচের সমস্যা রয়েছে। সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হলে এ গ্রাম কৃষিতে সমৃদ্ধ হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম মিজান মাহমুদ বলেন, মিষ্টি আলু একটি অর্থকরী ফসল। মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মিষ্টি আলুর চাষ বাড়ানো প্রয়োজন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার বলেন, কয়রা উপজেলায় আমনের পরে সেচের বেশ অভাব দেখা দেয়। তাই সেই সময় কৃষকরা মিষ্টি আলুর মতো শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করেন। মিষ্টি আলু খেলে ভাতের চাহিদা কমে যায়। এটি পুষ্টিকর। এ গাছের ডগাও শাকের মতো খাওয়া যায়।