ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টাঙ্গাইলে ফারুক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে ফারুক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন
আলোচিত বিএনপি নেতা ফারুক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

Advertisement

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ এবং দাইন্যা এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে শাহজাহান। বাপ্পা টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে।

আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক।

মামলার অপর চার আসামি মো. সুজন, ছানোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রুজবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সুজন ও ছানোয়ার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। শফিকুল ইসলাম ও রুজবেল পলাতক।

এ ছাড়া মামলার অপর আসামি সঞ্জিত ঘোষকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী।

ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

পুনঃতদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডি আদালতে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ওই অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হলো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/টাঙ্গাইল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!