ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ বিনোদন ]

নক্ষত্রপতন: প্রয়াণে বরেণ্য অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০০:২২, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নক্ষত্রপতন: প্রয়াণে বরেণ্য অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সিনেমার পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই ছিল আলাদা এক আকর্ষণ। সৌন্দর্য, সাবলীল অভিনয় আর প্রাণবন্ত পর্দা উপস্থিতিতে খুব অল্প সময়েই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন মিঠু মুখার্জি। অথচ খ্যাতির শিখরে থাকা সেই অভিনেত্রীই একসময় নিভৃতে সরে যান চলচ্চিত্র ও জনসমক্ষ থেকে। দীর্ঘদিনের সেই আড়াল আর ভাঙল না। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে ৭১ বছর বয়সে চলে গেলেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় এই নায়িকা।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মিঠু মুখার্জি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। কয়েক বছর ধরে মুম্বাইয়েই বসবাস করছিলেন এই অভিনেত্রী। তার মৃত্যুর খবর প্রথম প্রকাশ করে এনডিটিভি।

সত্তরের দশকে বাংলা সিনেমার পর্দায় মিঠু মুখার্জির আবির্ভাব ছিল বেশ আলোচিত। তখনকার জনপ্রিয় নায়িকাদের ভিড়ে নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও রঞ্জিত মল্লিকের মতো শীর্ষস্থানীয় অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছিলেন।

Advertisement

১৯৫৫ সালের ১৯ জুন কলকাতায় জন্ম মিঠু মুখার্জির। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৭২ সালে চিত্ত বসু পরিচালিত ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরের কয়েক বছরে একের পর এক উল্লেখযোগ্য সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

‘মর্জিনা আবদুল্লা’, ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন মিঠু। চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ছিল বৈচিত্র্য। কখনো প্রেমিকা, কখনো প্রাণবন্ত তরুণী, আবার কখনো ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি। স্বাভাবিক অভিনয় ও পর্দায় সহজাত উপস্থিতির কারণে অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেন।

বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও কাজ করেছেন মিঠু মুখার্জি। সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বলিউডে পা রাখেন তিনি। দুলাল গুহ পরিচালিত ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। এরপর ‘দিল লাগি’, ‘সফেদ ঝ্যুট’সহ কয়েকটি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেন। বিনোদ মেহরার সঙ্গে একটি বাংলা সিনেমার রিমেকেও কাজ করেছিলেন তিনি।

তবে ক্যারিয়ারের খুব দীর্ঘ সময় ধরে পর্দায় দেখা যায়নি মিঠুকে। ১৯৯০ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত শেষ সিনেমা ‘আশ্রিতা’। সিনেমাটি প্রযোজনাও করেছিলেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয় ও গ্ল্যামারজগতের সঙ্গে নিজের দূরত্ব বাড়িয়ে নেন। কাজের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জনসমক্ষ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মিঠু মুখার্জির এই নিভৃত জীবনযাপন অনেকটা মনে করিয়ে দেয় কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনকে। সুচিত্রা সেনের মতো তিনিও জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা অবস্থায় নিজেকে আড়ালে নিয়ে যান এবং ব্যক্তিগত জীবনকে রাখেন সম্পূর্ণ গোপন। ফলে পরবর্তী জীবনে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শক ও সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ থাকলেও তিনি নিজেকে প্রকাশ্যে আনেননি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!