মন পড়ে আছে হাবিপ্রবির ইফতার উৎসবে

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মন পড়ে আছে হাবিপ্রবির ইফতার উৎসবে

মিরাজুল মিশকাত, হাবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ১৬ মে ২০২০  

ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের স্মৃতিগুলো ভালোবাসায় পরিপূর্ণ

ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের স্মৃতিগুলো ভালোবাসায় পরিপূর্ণ

‘লাইব্রেরির সামনে ইফতার মাহফিল খুব মিস করছি, তোরা যেখানে থাকিস ভালো থাকিস’- লিখে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গতবছর ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের ছবিগুলো শেয়ার করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকারিয়া রহমান। 

সজীব নামের আরেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, মন পড়ে আছে হাবিপ্রবির ইফতার উৎসবে। ক্যাম্পাসের ইফতারের স্মৃতি খুব মনে পড়ে, কার চেয়ে কে কতো বেশি খেতে পারে তার প্রতিযোগিতা আজ স্মৃতিতে রোমন্থন।

প্রতিবছরের ন্যায় গতবারও রমজানে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো খোলা ছিলো হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস। অন্যসময় বিকেল বা সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের কোলাহলে পূর্ণ থাকলেও রমজান মাসে দেখা যেতো তার ঠিক উল্টো চিত্র।

রমজানে প্রতিটি বিকেলে দিনাজপুর সরকারি কলেজ মাঠ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাড়তে থাকত হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হতো ইফতার আয়োজনের ব্যস্ততা।

কেউ ইফতার কিনে আনছেন, কেউবা আনছেন পানি আবার কেউ ঘাসের উপর পত্রিকা বিছিয়ে বসার ব্যবস্থা করছেন। কারো হাতে যেন এক মিনিট দাঁড়ানোর সময় নেই। বারবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে শুরু হয় ক্ষণগণনা। এর মাঝেই চলে বন্ধুত্বের নানা স্মৃতিচারণ।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মাঠ, ওয়াজেদ ভবন চত্বর শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র, লাইব্রেরি চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন হলের ছাদে চলত ইফতারের প্রস্তুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগ, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ছাত্র সমিতি ছাড়াও বিভাগগুলোর বিভিন্ন ব্যাচের আলাদা ইফতার আয়োজন দেখা যেত।

ইফতারে ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু, খেজুর, জিলাপি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ফলমূলের সঙ্গে শরবতের মতো সাধারণ খাবার থাকলেও এগুলো অমৃত মনে হতো। কখনো কখনো ইফতারের সব আইটেম একসঙ্গে মাখিয়ে খেতেও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। মুসলমানদের পাশাপাশি অন্যধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদেরও দেখা যেত ইফতারে। সবমিলিয়ে প্রতিদিনের ইফতারের সময় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করত।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত মার্চ মাসে বন্ধ হয়েছে হাবিপ্রবি। তাই রমজানে ক্যাম্পাসে নেই ইফতারের কোনো আয়োজন। নেই উৎসবমুখর সেই পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের পদচারণাবিহীন ক্যাম্পাস যেনো এক ভৌতিক নগরীতে পরিণত হয়েছে।

ক্যাম্পাসের ইফতারের স্মৃতিচারণা করে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের স্মৃতিগুলো ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। ওই স্মৃতিগুলো খুবই মিস করি। পরিবার থেকে দূরে থাকলেও বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের সময়ে পরিবারের সঙ্গেই ইফতার করছি বলে মনে হতো। এবার ক্যাম্পাসে ইফতারের সেই আয়োজন নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সামনে আবারো প্রাণের ক্যাম্পাসে ইফতার করতে পারবো।

জান্নাতুন ফেরদৌস নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে ইফতার মানে অন্যরকম অনুভূতি। সিনিয়র-জুনিয়র কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করা যায়। যা সত্যিই অনেক ভালো লাগার বিষয়। হলের রুমে হতো নান্দনিক ইফতার। ব্যাচভিত্তিক ডাইনিংয়ে আয়োজন হতো ইফতারের। জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, বিভাগীয় প্রাক্তন-বর্তমানের ইফতার উৎসব ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এসব আয়োজন হতো ক্যাম্পাসের সবুজমাঠে। যা রীতিমতো মিলনমেলায় পরিণত হতো।

তবে করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে পরবর্তীতে বন্ধু, সিনিয়র-জুনিয়র, শিক্ষকদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের সবুজ চত্বরে দেখা হবে- এই প্রত্যাশাই সব শিক্ষার্থীর।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম