পাপিয়া যেত মাজারে, গোপনে করত কালী সাধনা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

পাপিয়া যেত মাজারে, গোপনে করত কালী সাধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০১ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ গ্রেফতার চারজনকে তিন মামলায় পাঁচ দিন করে ১৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তবে এরইমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে অনেক পিলে চমকানো তথ্য। 

জানা গেছে, পাপিয়া মুসলিম ধর্মের অনুসারি হলেও তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল কালী মন্দিরে। এর বাইরেও তিনি শিব লিঙ্গের পূজা করতেন। গ্রেফতারের পর দেখা যায়, পাপিয়ার এক হাতে কাবার ছবি, অন্য হাতে মন্দিরের ছবি আঁকা রয়েছে। 

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের জন্য সুন্দরী তরুণী সরবরাহ করতে পাপিয়ার সহায়তা চাইতেন অনেকে। সেখানেই ওই প্রভাবশালীদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ধারণ করে রাখতেন তিনি। পরবর্তীতে তাদের নিয়মিতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং করতেন তিনি।

পাপিয়া একটি অটো গ্যারেজের মালিক সাইফুল বারীর মেয়ে। এর আগে তিনি পেট্রোবাংলার গাড়িচালক ছিলেন। অন্যদিকে, তার স্বামী মতি সুমনের বাবা মতিউর রহমান চৌধুরী একজন গানের শিক্ষক। আধাপাকা টিনশেড ঘরেই কেটেছে তাদের দুজনের শৈশব-যৌবন। ২০১১ সালে মতি সুমনের সঙ্গে বিয়ের সময়ও তাদের কিছুই ছিল না। ২০১৪ সাল পর্যন্ত অনেকটা একই অবস্থা ছিল তাদের। এই দম্পতির মাদহাত চৌধুরী ইসাব নামে আট বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তবে গত পাঁচ বছরে অর্থ বিত্তে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। 

গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাট কিনে বনেছেন শত কোটি টাকার মালিক। দেশে গাড়ির ব্যবসার পাশাপাশি বিদেশে দিয়েছেন বার। আর সবই করেছেন, অন্যায় ও অপকর্মের ওপর ভর করে। ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দেহব্যবসাই তাদের মূল পেশা। অতি সস্প্রতি পাপিয়া দোতলা আধুনিক একটি বাড়ি করেছেন। 

এদিকে, শৈশব থেকেই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ব্ল্যাকমেইল ছিল সুমনের প্রধান পেশা। ২০১২ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায় নিজ বাসার সামনে সুমনের ওপর গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিটি বিদ্ধ হয় তার স্ত্রী পাপিয়ার পেটে। এরপর তারা নরসিংদী ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। বিভিন্ন প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করে দুই হাতে কামাতে থাকেন অর্থ।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, এ মামলার তদন্ত নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই আমরা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তবে আমাদের বিশ্বাস রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। 

এর আগে, শনিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন ও অবৈধ টাকা পাচারের অভিযোগে শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরদিন সকালে রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বেশকিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ