ইরানি কূটনীতিকদের নিয়ে মার্কিন দাবি ‘ভুয়া’: আরাঘচি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে ইরানি কূটনীতিকদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘বের করে দেওয়া হয়েছে’—মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি দাবি করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া সব ইরানি কূটনীতিক নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে একজন আগেই দেশ ছেড়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
.png)
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পরও নিউইয়র্কে অবস্থান করা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এ ধরনের বহিষ্কারের দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। ইরানের জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছিল, প্রতিনিধিদলের নিউইয়র্ক ছাড়ার সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল এবং তারা সেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলে যায়।
আরাঘচি এক্সের পোস্টে বলেন, ‘ভুয়া কূটনৈতিক বহিষ্কার’ নিয়ে কোনো কূটনৈতিক সংস্থার প্রধানের গর্ব করা উচিত নয়। তার ভাষ্য, এ ধরনের প্রচার যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা ও পরাজয়ের প্রকাশ এবং জাতিসংঘের আয়োজক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানি কূটনীতিকদের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।