ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চুরি ঠেকাতে নির্ঘুম রাত

জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
প্রকাশিত: ১৩:১১, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯
চুরি ঠেকাতে নির্ঘুম রাত
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ব্যাপক হারে গরু চুরি বেড়ে গেছে। মাস চারেক হলো চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন গরু মালিকরা। উপজেলার লক্ষ্মীপুর, মনোহরপুর, পিয়ারাতলা এলাকায় একমাসে পাঁচটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এরমধ্যে রোববার দিবাগত রাতে পিয়ারাতলা মুন্সিপাড়া এলাকার ফারুক হোসেনর একটি সাদা-কালো রঙের জার্সি গরু ও মোল্লা পাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্লার কালো রঙের জার্সি গরু চুরি হয়। সপ্তাহ খানেক আগে মনোহরপুর কাজী পাড়া এলাকার হোসেন আলির একটি গরু ও লক্ষ্মীপুর মিল পাড়া এলাকার তাহের ফকিরের দুটি গরু প্রায় ২০ দিন আগে চুরি হয়।

মোল্লা পাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্লা জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার রাতে গোয়াল ঘরে খাবার দিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ি। সোমবার সকালে গরুর ঘাস দেয়ার জন্য গোয়ালে ঢুকে দেখি গরুটি নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও গরুর কোনো সন্ধান পাইনি। কয়েকদিন আগে গ্রামের বেপারীরা গরুটির দাম এক লাখ টাকা বলে গিয়েছিল। বেশি মূল্য পাওয়ার আশায় আমি বিক্রি করিনি।

লক্ষ্মীপুর মিলপাড়া এলাকার আলী ফকির জানান, চার মাস আগে অনেক কষ্টে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু কেনার পর লালন-পালন শুরু করি। কিন্তু ২০ দিন আগে গরু দুটি চুরি হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে থানায় একটি জিডি করি। গরু দুটি চুরি হয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।

স্থানীয় জিয়াউর রহমান বলেন, হঠাৎ কয়েকদিন ধরে জীবননগরে গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। খুব দুশ্চিন্তায় আছি আমার বেশ কয়েকটি গরু এলাকায় লালন-পালনের জন্য দেয়া রয়েছে। রোববার রাতে দুই বাড়িতে গরু চুরির খবর শুনে আমি যাদের বাড়িতে লালন-পালনের জন্য দিয়েছি তাদের বাড়িতে গিয়ে গিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বলে এসেছি। এছাড়াও অনেক গরু মালিক দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। 

গরু চুরি প্রসঙ্গে জীবননগর থানার ওসি (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, গত মাসে দুটি গরু চুরির অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বাকিগুলোর ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাননি। তারা কার্যক্রম শুরু করেছেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!