করোনা আতঙ্কের মাঝে ধেয়ে আসছে নতুন ঝুঁকি!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনা আতঙ্কের মাঝে ধেয়ে আসছে নতুন ঝুঁকি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৭ ২২ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৭:২১ ২২ মার্চ ২০২০

পঙ্গপালের হানার ফাইল ছবি

পঙ্গপালের হানার ফাইল ছবি

বৈশ্বিক মহামারিতে রূপান্তরিত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবায় মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ। আর ভাইরাসটিতে তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। বৈশ্বিক আতঙ্কের মাঝেই ধেয়ে আসছে নতুন ঝুঁকি। জলবায়ু পরিবর্তন হওয়ায় আরব উপসাগরের ঊষর মরুভূমিতে পঙ্গপালের বংশবিস্তার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।-খবর গার্ডিয়ানের।

বিশেষজ্ঞদের বরাতে গার্ডিয়ান জানায়, গত পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধে আরব উপদ্বীপের দেশ ইয়েমেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে দেশটি পঙ্গপাল বিস্তার নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা হারিয়েছে। ফলে পতঙ্গ দ্রুত গতিতে বংশবিস্তার করছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২০১৮ সালে ঘূর্ণিঝড় মেকুনু আঘাত হানে। সেই আঘাতে সৌদি আরবের মরুভূমিতে আদ্র বালু ও গজিয়ে ওঠা উদ্ভিদের কারণে পতঙ্গ বংশবিস্তার করেছে। বিশ্বের বালুময় ইয়েমেন ও ওমানের মরুভূমিতে শস্য ভক্ষণকারী পতঙ্গের জন্ম হয়।

এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পতঙ্গ বিশেষজ্ঞ কেইথ ক্রিসম্যান বলেন, শুষ্ক পরিবেশের মাঝে অঞ্চলটিতে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে পঙ্গপালের বংশবিস্তার সহজ হয়। যা ৪০০ গুণের বদলে আট হাজার গুণ বেড়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড় পতঙ্গের বংশবিস্তারের জন্য ছয় মাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এরপর আবাস্থল শুষ্ক হলে পঙ্গপালের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায় বা তারা মৃত্যুবরণ করে। অনেক পঙ্গপাল অন্য স্থানে চলে যায়। তবে অঞ্চলটিতে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়েছে। এতে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের সংখ্যাও বাড়ছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানায়, পঙ্গপালের তাণ্ডবে প্রায় ২৫০ কোটি মানুষের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

পঙ্গপাল পর্যবেক্ষণ বিভাগ লোকাস্ট ওয়াচের তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক মাসে অন্তত ১০ দেশে পঙ্গপাল আক্রমণ করেছে। সর্বশেষ পাকিস্তানে পঙ্গপাল আক্রমণ করে। এর আগে কেনিয়ার একটি এলাকায় পঙ্গপালের ঝাঁক শনাক্ত হয়। ওই এলাকাটি লুক্সেমবার্গের আকারের মতো।

লোকাস্ট ওয়াচ জানায়, পঙ্গপাল বিস্তার রোধে ১৪ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। চলতি বছরের জুনের দিকে পঙ্গপালের সংখ্যা ৪০০ গুণ বাড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি। ফলে গত কয়েক দশকের তুলনায় পরিস্থিতি খারাপ হবে। এছাড়া পঙ্গপাল মহামারির তুলনায় বিপর্যয় দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ