ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সান্তাহার ইয়ার্ড কলোনিতে চিপসের কারখানা!

বগুড়া প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৫:৪০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সান্তাহার ইয়ার্ড কলোনিতে চিপসের কারখানা!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরের ইয়ার্ড কলোনিতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে চিপস। স্থানীয়রা প্রক্রিয়াজাত এ চিপসকে কুলফি চিপস হিসেবে চেনেন। চিপসটি কেনার আকর্ষণ বাড়াতে প্রতি প্যাকেটের ভেতরে একটি বেলুন দেয়া হচ্ছে। এতে বেলুনের গন্ধে অল্পদিনে চিপস খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সান্তাহার পৌরশহরের ইয়ার্ড কলোনিতে রফিকুল ইসলাম, জামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ও ঢাকাপট্রিতে আলমগীর হোসেন বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া গড়ে তুলেছেন চিপসের কারখানা। এসব চিপস তৈরি করতে ব্যবহার করছেন নিন্মমানের ভোজ্য তেল। ছাউনি বিহীন চুলায় চিপসগুলো ভাজার সময় তেলে অসংখ্য ছাই ও ধুলা-বালু উড়ে এসে পড়ছে। এসব চিপস ভাজা শেষে প্যাকেট তৈরি করতে দেয়া হচ্ছে কলোনির বেশ কিছু নারী শ্রমিকদের। চিপস তৈরির সময় নির্দিষ্ট পোশাক ছাড়াই নোংরা পরিবেশে বাড়ির উঠানে, বারান্দায় বা খোলা স্থানে বিছানায় প্যাকেট তৈরি করছেন। প্যাকেট তৈরি শেষে মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন বা কাজের চাপ বেশি থাকলে মালিকরা নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্ত ‍প্রক্রিয়াজাতকৃত এসব চিপস তৈরির পর উৎপাদন বা মেয়াদের তারিখ উল্লেখ নেই।  অন্য চিপসগুলোর মতো এসব চিপস সব মুদি ও কনফেকশনারি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া সান্তাহার জংশন স্টেশন থেকে বেশ কিছু ট্রেনযোগে নাটোর, কুষ্টিয়া, জয়পুরহাট, বগুড়া ও নওগাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলমের প্যাকেট তৈরিতে ব্যস্ত এক নারী শ্রমিক বলেন, চিপস খেয়ে শিশুদের ক্ষতি হবে কিনা জানি না। তবে প্যাকেট করে দিলে টাকা পাই। তাই কাজ করি। আর এসব বন্ধ হয়ে গেলে অন্য কিছু করবো। এতে কোনো সমস্যা হবে না।

Advertisement

দমদমা গ্রামের শিশুর অভিভাবক জাকির হোসেন বলেন, এসব চিপস কোথায় ও কিভাবে আসছে? চিপসগুলোর প্যাকেটে কোম্পানির নাম, মনোগ্রাম বা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই। নিঃসন্দেহে এসব চিপস নিন্মমানের। তাই এসব চিপসগুলো শিশুরা খেলে যেকোনো সময় অসুস্থ হতে পারে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।
 
ইয়ার্ড কলোনির বাসিন্দা ও চিপস কারখানার মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, এ ব্যবসা বৈধ। তাই পুলিশ আসলে এলে চলে যায়। পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সসহ সব প্রকার কাগজ রয়েছে। তাছাড়া পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর চিপস তৈরির বিষয়টি জানেন।
 
সান্তাহার পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান বলেন, কোথায় তৈরি হচ্ছে, কে তৈরি করছে, এসব জানা নেই। এটি আইনত অপরাধ। যেখানে হচ্ছে, সেখানে আমাকে নিয়ে চলেন।

উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ভবেশ চন্দ্র রায় জানান, সান্তাহারে চিপস তৈরির জন্য বিএসটিআই কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এ ব্যাপারে আদমদীঘির ইউএনও আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!