যেভাবে খাদ্য অপচয় রোধ করছেন এই নারী উদ্যোক্তা
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ খাবার নষ্ট হয়। বিশ্বের দেশগুলোর র্যাংকিংয়ে দেখা যায়, খাদ্য বর্জ্য যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদনকারী। সেই ধারণা থেকেই পাঁচ জন ড্যানিশ উদ্যোক্তা কয়েক বছর আগে অনলাইনে একটি মার্কেটপ্লেস চালু করেছিলেন।
যেখানে রেস্তোঁরা এবং দোকানগুলো তাদের কী কী অবশিষ্ট খাবার থাকে সেগুলো ও সংগ্রহের জন্য সময় পোস্ট করে এবং সাধারণ মানুষ অ্যাপের মাধ্যমে ছাড়যুক্ত খাবারগুলো কিনতে পারেন। উদ্বৃত্ত খাবার ফেলে দেয়া থেকে বাঁচানো হয় এবং অ্যাপ্লিকেশনটি বিক্রি করা খাবারের ছোট একটি অর্থ উপার্জন করে।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতাদের প্রোফাইল দেয় বিবিসির সাপ্তাহিক 'দ্য বস' সিরিজ। সম্প্রতি ফিটনেস ট্র্যাকার এন্ডোমন্ডোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং খাদ্য-বর্জ্য অপচয় রোধকারী অ্যাপ 'টু গুড টু গো'-এর প্রধান নির্বাহী মেটে লিকে'র সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। যাতে মেটে তার জীবনের সফলতার শুরুর দিকের গল্প বলেছেন।

২০১৬ সালের আগস্টে ডেনমার্কের মেটে লিকে ও তার সহকর্মী ডেনস-সহ আরো কয়েকজন উদ্যোক্তা এই মিশন শুরু করে। খাদ্য অপচয়ের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল সেই মিশনের উদ্দেশ্য। আর এই মিশনের নাম ছিল 'টু গুড টু গো'।
অ্যাপ্লিকেশনটির প্রধান নির্বাহী মেটে স্মৃতিচারণ করে বলেন, খাদ্যদ্রব্যের বর্জ্য সমাজে আসলে কত বড় বিষয় তা সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত ছিলাম না। আরো গবেষণা করার পরে এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পেরে হতবাক হয়েছিলাম। এটা আমার মন খারাপ করে দিয়েছে"।
মেটে বলেন, এটি সত্য যে আমরা এত বড় একটি সমস্যা সমাধান করতে এবং প্রক্রিয়াটিতে সবাইকে বিজয়ী হিসাবে রেখে যেতে পারি। আমি ভেবেছিলাম যে এটি সত্যিই শক্তিশালী।
তিনি তার বিনিয়োগকৃত এই স্টার্ট-আপটিকে অনেক উত্তেজনাপূর্ণ মনে করেন। এজন্য তিনি পুরনো কোম্পানি আন্ডার আর্মর ছেড়ে 'টু গুড টু গো'তে প্রধান নির্বাহী হিসাবে যোগদান করেন। তিনি বলেন, যদি আমি এতে ঝাঁপিয়ে না পড়তাম তবে আমি এতকিছু করতে পারতাম না।

মেটে এই প্রজেক্টটি দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য তদারকি করছেন। সংস্থাটি এখন ৫০০ জনকে নিয়োগ দিয়েছে, প্রজেক্টটি সুইডেনে গড়ানোর ফলে বর্তমানে ১৪ টি ইউরোপীয় দেশও এটি নিয়ে কাজ করছে। মেটে বলেন, প্রথম মিলিয়ন ব্যবহারকারীদের কাছে যেতে এটি তিন বছর সময় নিয়েছিল এবং খুব ভাল করতে ১৫ মাস সময় লেগেছে। এটি আমাদের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা সময় যখন আমাদের তৈরিকৃত প্রযুক্তি প্রস্তুত।
মেটে আরো জানান, এটি ইউরোপের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মধ্যে একটি যা ১৮ মিলিয়ন মানুষ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পরিবেশ-সচেতন তরুণ ও বৃদ্ধ পর্যন্ত গ্রাহকরা দর কষাকষির সুযোগ পাচ্ছে এতে। বর্তমানে এটি 'ইও সুশী' থেকে 'অ্যাকর হোটেল' পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ হাজারেরও বেশি খাদ্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে। তাছাড়াও মেটে এটিকে সামাজিক প্রভাব বিস্তার করা কোম্পানি হিসাবে দাবি করেন। সেইসঙ্গে ভালো কিছু করার মাধ্যমে রাজস্বতে ইউরো যোগ করছেন তারা।

এখন পর্যন্ত টু গুড টু গো দলের সদস্যরা ২৫ মিলিয়নেরও বেশি খাবার বাঁচাতে সহায়তা করেছে। যা কিনা মোট ৭২ টনেরও বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপাদন কমিয়েছে। এ বিষয়ে মেটে বলেন, এটি কেবল একটি সূচনা। আমরা এখনো লক্ষ্য সীমার কাছাকাছি পৌঁছাইনি। পরের পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা আরো এক বিলিয়ন খাবার অপচয় রোধ করতে চাই।
সহযোগী গবেষণা সংস্থা মিন্টেলের বিশ্লেষক ক্যাডি মনে করেন, খাবারের বর্জ্য সম্পর্কে যখন আচরণের পরিবর্তন করার কথা আসে, তখন গ্রাহকরা পুরষ্কারের জন্য আরো ভাল সাড়া দেন। 'টু গুড টু গো' অ্যাপ্লিকেশনটি ছাড়ের ভিত্তিতে দিনের খাবারের প্রচারের মাধ্যমে বেঁচে যাওয়া খাবার খাওয়াকে স্বাভাবিক করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক ডজন সংস্থা এটিকে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত হয়েছে। যার মধ্যে ওলিও, ফুডক্লাউড এবং কারমা’র মতো প্ল্যাটফর্মগুলোও রয়েছে। খাদ্য ও মুদি গবেষণা গ্রুপ আইজিডির অ্যালান হাইস বলেছেন, এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্কুলগুলোতে খাদ্য বর্জ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি গ্রাহকদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ