এ্যাপোলো হাসপাতালে খাদ্যনালি ক্যান্সারের সফল অস্ত্রোপচার
রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে সম্প্রতি সিলেটের নাজার বেগম (৩৮) নামে এক নারীর খাদ্যনালির ক্যান্সারের সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারটি করেন অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ।
গত বছরের জুলাই মাসে নাজার বেগমের খাদ্যনালিতে ক্যান্সার (Esophegus Cancer) ধরা পড়ে। শুরুতে তিনি ডা. বিশ্বজিত ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে কেমো রেডিয়েশন গ্রহণ করেন। পরে তিনি ডা. মোহাম্মদ ফরিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ডা. ফরিদ ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে (পেট না কেটে ছিদ্রের মাধ্যমে) প্রথমে পেটে ক্যানসারের বিস্তৃতি পরীক্ষা করেন। এরপর লিভারের সন্দেহজনক কিছুটা অংশ কেটে হিস্ট্রোপ্যাথোলজি ল্যাব-এ পাঠিয়ে দেন।
ক্যান্সার ছড়িয়ে না যাওয়ার হিস্ট্রোপ্যাথোলজি প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুরো পাকস্থলী এবং গলার খাদ্যনালির নিচের অর্ধেকের বেশি অংশ পুরোপুরি মোবালাইজ (Stomach Esophegus কে তার অবস্থান থেকে ছাড়িয়ে নেয়া) করেন। এরপর ক্যান্সারে আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলে দেন। খাদ্যথলির বাকি অংশটুকু দিয়ে টিউব-এর মতো করে নতুন খাদ্যনালি এবং খাদ্যথলি তৈরি করে গলার দিকে টেনে নিয়ে এসে গলার মাঝামাঝি অংশের মূল খাদ্যনালির (Esophegus) সঙ্গে জুড়ে দেন। বর্তমানে কোনোরকম জটিলতা ছাড়াই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন রোগী।
গলার খাদ্যনালির ক্যান্সার অন্যান্য ক্যানসারের তুলনায় অত্যন্ত ভয়াবহ। এ রোগের সার্জারির ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই পেটের সঙ্গে বুকও কাটতে হয়। যা রোগীর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সার্জারির পরবর্তী অনেক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি অনেকে মারাও যান।
ল্যাপারোস্কপির সহায়তায় খাদ্যনালি, খাদ্যথলি এবং পরিপাকনালির বিভিন্ন অংশ অতিসহজেই বড় কোনো জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়। আমাদের দেশে সর্বপ্রথম ডা. মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন-ই ল্যাপারোস্কপির সহায়তায় এ ধরনের অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি সম্পন্ন করছেন।