এবার করোনায় মৃতদের পুড়িয়ে ফেলছে ইতালিও
নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে ইতালিতে প্রথম মৃত্যুটি ঘটেছিল গত ২১ ফেব্রুয়ারিতে, তখন চীনে মৃতের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩০০ এর বেশি। চীনে ক্রমান্বয়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের দেশটি। প্রথম মৃত্যুর এক মাস না গড়ানোর আগেই ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ছাপিয়ে গেছে চীনকে। অথচ ইতালিতে প্রথম মৃত্যু ঘটেছিল চীনে মৃত্যুর দেড় মাসের বেশি সময় পরে।
দেশটিতে মৃতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে যে এখন কবরস্থানগুলোতেও দাফনের জায়গা হচ্ছে না তাদের। আর তাই মরদেহগুলো পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানা গেছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কবর দেয়ার স্থান সংকুলান না হওয়ায় গত বুধবার রাতে ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় লোম্বার্ডির বারগামোর শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় শত শত কফিন। এতে ব্যবহার করা হয় সেনাবাহিনীর ১৫টি ট্রাক। এসব ট্রাকে করে শহরের একটি কবরস্থান থেকে দাফনের জন্য অন্য অঞ্চলে নেয়া হচ্ছে করোনা আক্রান্তদের মরদেহ। এদিকে ট্রাকে করে মরদেহ সরানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে । অনেক ইতালিয় এই ভিডিওকে ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ ছবি’ বলে অভিহিত করেছেন ।
এ নিয়ে ইতালি লোম্বার্ডি অঞ্চলের ব্রেসকিয়া শহরের চিয়ারি হাসপাতালের পরিচালক জিন পিয়েরে রাম্পোনি বলেন, আমরা চীনের ছবিগুলো দেখে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম তবে এমন চিত্র ভয়াবহ চিত্র দেখবো সেটি ভাবিনি।
এদিকে ইতালির বারগামো শহরের মেয়র গিয়োরগিয়ো গোরি বলেন, মৃতের আসল সংখ্যা আরো বেশি কারণ করোনার লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া অনেক মৃতের শরীরে ভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়নি। বারগামো শহরের মেয়র আরো বলেন, ২৪ ঘণ্টাই মরদেহ পুড়ানো হচ্ছে, একদিনে ২৫টির মতো মরদেহ পুড়ানো যায়। পুড়ানোর পর ছাইগুলো আবার যে এলাকা মরদেহ থেকে এসেছে সেখানে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ৪০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। যা মৃত্যুর সংখ্যায় চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩২২ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৩৫ জন। এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ইতালি সরকার আগেই জিম, পুল, জাদুঘর, স্কি রিসোর্ট ও সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশটিতে ভাইরাসের সংক্রমণের প্রবণতা সবচেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।