ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

মেয়েদের বিয়ের বয়স কমাতে তদবির করছেন বড় দলের নেতারা: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৪, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
মেয়েদের বিয়ের বয়স কমাতে তদবির করছেন বড় দলের নেতারা: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।ছবি সংগ্রহীত

দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমাতে তদবির করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগেও এমন পশ্চাৎমুখী আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়স কতটা কমানো যায়, তা নিয়ে দেনদরবার করছেন। তাদের এমন অবস্থানের পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা তথ্য ও জ্ঞানের ভিত্তিতে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।

প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করে তিনি বলেন, চার হাজার বছর আগের মিসর কিংবা আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিসের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে বর্তমান যুগের কোনো তুলনা চলে না। অথচ ২০২৬ সালের রোবটিকস ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এসেও মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু কারিগরি প্রশিক্ষণ কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলেই নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে না। এজন্য নারীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাল্যবিয়ের অন্যতম কারণ। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা প্রান্তিক কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। এতে তারা নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থাটির অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম।

এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!