শরীয়তপুরে কাঁটাতারে বন্দী পরিবার
জমির বিরোধে প্রতিশোধ নিতে একটি পরিবারকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আবদ্ধ রেখেছে এক প্রভাবশালী। এরইমধ্যে এর প্রতিকার পেতে স্থানীয় প্রতিনিধি, পুলিশকে অবগত করেছেন ভুক্তভোগী। এছাড়া আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে।
শরীয়তপুর সদরের বিনোদপুর চরেরকান্দি গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী জব্বার ফকির, আলী মোহাম্মদ ফকির, বাদল ফকির, পিয়ারা বেগম ও কমলা বেগম জানান, প্রায় দুই মাস ধরে তারা কাঁটাতারের বেড়ায় আবদ্ধ হয়ে জীবন যাপন করছেন তারা। স্থানীয় ইউপির সদস্য, চেয়ারম্যান ও পুলিশকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছেন।
.png)
মামলার নথির তথ্যানুযায়ী, ওই গ্রামের সেকান্দার ফকির স্ত্রী নুরজাহান বিবি ও ছেলে জব্বার ফকির, আলী মোহাম্মদ ফকির, বাদল ফকির, মেয়ে পিয়ারা বেগম ও কমলা বেগমকে ওয়ারিশ রেখে মারা যান। সেই থেকে স্থানীয় সোনা মিয়া মাদবর তার ছেলে জাহাঙ্গীর মাদবর, নাতি রাসেল, নাজমুল ও মহসিনদের নিয়ে সেকান্দার ফকিরের ওয়ারিশদের এলাকা ছাড়া করতে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। স্থানীয়ভাবে কোনো বিচার না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থানায় জিডি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। তাদের পক্ষে আদালতের রায় পাওয়ার পরও শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারছে না। অবশেষে শরীয়তপুরের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার ঘোষণার দাবিতে দেওয়ানি মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, আদালতে মামলা চলমান থাকা স্বত্ত্বেও বিবাদী সোনামিয়া মাদবর জব্বার-ফকিরদের বাড়ির উঠানে রড-সিমেন্টের খুঁটি পুঁতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। ফলে সেকান্দার ফকিরের ওয়ারিশরা কোনোভাবেই বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আ. জব্বার ফকির জানান, স্বত্ত্ব দখলীয় ২১ শতাংশ জমি থেকে বিআরএস রেকর্ডে ১০ শতাংশ জমি বিবাদীদের পূর্বপুরুষদের নামে ভুলক্রমে রেকর্ড হয়ে যায়। সেই থেকে বিবাদীরা আমাদের বাড়ি বেদখল করতে পাঁয়তারা চালায়। এরইমধ্যে বিবাদমান জমি থেকে মূল্যবান গাছপালা কেটে নতুন ফলের গাছ রোপণ করেছে বিবাদীরা। গোয়াল ঘর ভেঙে দেয়ায় গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। পছন্দের আমিন এনে বাড়ির উঠানে সীমানা পিলার স্থাপন করে কাঁটাতার লাগানো হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে আমাদের বাড়ির ২০ লোক বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। বাড়ির শিশুরা খেলতে গিয়ে কাঁটাতারে আটকে যাচ্ছে। সঠিক বিচার না পেয়ে আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
বিবাদী জাহাঙ্গীর মাদবর বলেন, বাদী পক্ষ অন্য এলাকা থেকে এসে আমাদের এলাকায় বাড়ি করেছে। পরে আমাদের বংশের এক মেয়েকে বিয়ে করে। বাদী আ. জব্বার ফকির অন্যায়ভাবে জমি দখল করেছে। এ নিয়ে বাদী জব্বার-ফকির আমাদের নামে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা করেছে। আমরাও বাদী হয়ে জব্বার-ফকিরের পরিবারের সদস্যেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আমিন দিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করে বেড়া দিয়েছি। এখন বাদী পক্ষ আদালতে পুনরায় মামলা করেছে। আমরা এ মামলা লড়ব। আদালতের চূড়ান্ত আদেশ আমাদের পক্ষে আসবে বলে আশাবাদী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন মাদবর বলেন, উভয়পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিশ হয়েছে। কোনো পক্ষই আমাদের সিদ্ধান্ত মানে না। এখন সোনা মিয়া মাদবরদের পক্ষ আমিন এনে জমি মেপে জমি আলাদা করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে।
শরীয়তপুর সদরের ইউএনও মো. মাহাবুব রহমান শেখ বলেন, কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার বিষয়টি জানি না। এছাড়া কেউ অভিযোগ করেনি। কোনো পরিবারের চলাচলের সড়ক বন্ধ করা আপরাধ। সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেব।
ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ