ঢাকা,  শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

জয়ের অনন্য নজির ভারতের ‘গোল্ডেন ডাবল’ এশিয়াডে

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০০:৫৬, ৪ অক্টোবর ২০২৬
জয়ের অনন্য নজির ভারতের ‘গোল্ডেন ডাবল’ এশিয়াডে
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক হকিতে শ্রেষ্ঠত্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করল ভারতীয় দল। শুক্রবার মেয়েদের দল চীনকে হারিয়ে ৪৪ বছরের খরা কাটিয়ে স্বর্ণ পদক জয়ের অবিস্বরণীয় কীর্তি গড়েছিল; আর আজ শনিবার কাকামিগাহারার অ্যাস্ট্রোটার্ফে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল ভারতীয় পুরুষ হকি দল।

এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এর আগে কখনই পরপর দুইবার সোনা জিততে পারেনি ভারত। ১৯৬৬, ১৯৯৮, ২০১৪ এবং ২০২২ সালের পর ২০২৬ নাগোয়ায় এসে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল-প্রথমবারের মতো ব্যাক-টু-ব্যাক সোনা জিতে পোডিয়ামের শীর্ষে পৌঁছাল হরমনপ্রীত সিংয়ের দল। আর এই সোনার ফলে ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করল ভারত।

শুরু থেকেই ডিফেন্সিভ মালয়েশিয়া

Advertisement

ম্যাচের শুরু থেকেই মালয়েশিয়া বক্সে ১১ জনকেই নামিয়ে ডিফেন্সিভ ব্লকে খেলতে শুরু করে। তবে সেই প্রাচীর ভাঙতে ভারতকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সপ্তম মিনিটে বিবেক সাগর প্রসাদের একটি রিভার্স হিট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও ১১তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে ভারত। প্রথম সুযোগটি মনদীপ মিস করলেও দ্বিতীয়বারে মালয়েশিয়ান গোলরক্ষক মুহাম্মদ জাইমিকে পরাস্ত করে বুলেট ড্র্যাগ-ফ্লিকে ভারতকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। কিন্তু মালয়েশিয়াও জবাব দিতে দেরি করেনি; ১৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আসা লং এরিয়াল বল চমৎকারভাবে নামিয়ে বাউন্সে চকিত হাফ-ভলিতে ১-১ সমতা ফেরান শ্যালো সিলভেরিয়াস।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে শীলানন্দ লাকড়ার দুর্দান্ত গতির সুবাদে ২৩তম মিনিটে ফের পেনাল্টি কর্নার পায় ভারত। সেখান থেকে চলতি আসরে নিজের সপ্তম গোলটি করে দলকে ২-১ এগিয়ে দেন জুগরাজ সিং। দ্বিতীয়ার্ধে নেমে ভারত আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়ে তোলে। ৩৫ ও ৪০ মিনিটে একাধিক সুযোগ নষ্ট হলেও ৪২তম মিনিটে বক্সের ভেতর মালয়েশিয়ার আইমান রোজেমির গায়ে বল লাগলে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় ভারত। স্পট থেকে গোলরক্ষককে উল্টো দিকে পাঠিয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান ৩-১ করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হার্দিক সিং। এই গোলের পরই ভেঙে পড়ে মালয়েশিয়া শিবির এবং ম্যাচ থেকে হারিয়ে যেতে থাকে।

চতুর্থ কোয়ার্টারে একের পর এক পেনাল্টি কর্নার ভারতের

চতুর্থ কোয়ার্টারে ভারত একের পর এক পেনাল্টি কর্নার আদায় করতে থাকে। টানা ছ'টি পেনাল্টি কর্নার অপচয় হলেও ভারত মাঠের রাশ হাতছাড়া করেনি। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে তৈরি হয় দারুণ এক মুহূর্ত—দিলপ্রীতের নিখুঁত বিল্ড-আপ থেকে বক্সের মাঝখানে বল পেয়ে আসরে ভারতের একমাত্র ফিল্ড গোলটি নিখুঁত ফিনিশে জালে জড়ান সুপার-সাব শীলানন্দ লাকড়া (৪-১)। এরপর ৫৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করে মালয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন স্বয়ং হরমনপ্রীত সিং (৫-১)।

বড় ব্যবধানে জয়ের ফলে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে মেতে ওঠেন ভারতীয় খেলোয়াড়রা। ২০১০ ও ২০১৮ এশিয়াডের সেমিফাইনালে ভারতের পথ আটকে দিয়েছিল মালয়েশিয়া; সেই দুই ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে ২০১৮ সালের পর থেকে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে অপরাজিত থাকার দৌড় বজায় রাখল ভারত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!