ঢাকা,  শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্কাউটিংয়ের সর্বোচ্চ সম্মান ‘প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ডে’ নির্বাচিত ভোলার একেএম আব্দুল্লাহ

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:৩৪, ৩ অক্টোবর ২০২৬
স্কাউটিংয়ের সর্বোচ্চ সম্মান ‘প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ডে’ নির্বাচিত ভোলার একেএম আব্দুল্লাহ
স্কাউটিংয়ের সর্বোচ্চ সম্মান ‘প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ নির্বাচিত হওয়া ভোলার একেএম আব্দুল্লাহ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‎ভোলায় স্কাউটে প্রথম প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন একেএম আব্দুল্লাহ। বাংলাদেশ স্কাউটের প্রোগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড প্রার্থীদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সারা বাংলাদেশ থেকে  উপজেলা, জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ে মনোনীত হওয়ার পর এই জাতীয় মূল্যায়নে  অংশ নিতে হয়। প্রার্থীদের মৌখিক, ব্যবহারিক ও সাঁতার মূল্যায়ন ক্যাম্প  গত ১৮-২০ জুন ২০২৬ জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মৌচাক গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হয়।

‎এই মূল্যায়নে ভোলা সদর উপজেলা থেকে একেএম আব্দুল্লাহ মনোনীত হয়েছেন। তিনি ভোলা আবদুর রব স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। তার সঙ্গে বোরহানউদ্দিন থেকে মাইশা জান্নাত ও শুয়াইব আনাম মনোনীত হয়েছেন। ইতোপূর্বে চরফ্যাশন উপজেলায় এই পি এস অ্যাওয়ার্ড পেলেও জেলায় সকল উপজেলা ছিল অ্যাওয়ার্ড শূন্য। এই প্রথম ভোলা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গৌরব অর্জন করল।

‎আব্দুল্লাহ ২০২৩ সালের ঢাকা মৌচাকে জাতীয় জাম্বুরিতে অংশগ্রহণ করে, গৌরব পতাকা অর্জন করেন। এ সাফল্য তার প্রতিষ্ঠান এবং ভোলা জেলার জন্য গৌরব বয়ে আনে। তিনি জেলা স্কাউটের পক্ষ হয়ে জাতীয় দিবসগুলোতে স্কাউটের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। ইতোপূর্বে তিনি এবং তার বাবা মনিরুল ইসলাম ও তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোলা আবদুর রব স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোলা সদর উপজেলায় স্কাউটে  শ্রেষ্ঠ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তার বাবা মনিরুল ইসলাম ভোলা সদর উপজেলার প্রথম এ এল টি মনোনীত হন এবং জেলার প্রথম ডি আর সি মনোনীত হন বরিশাল অঞ্চলের। আব্দুল্লাহর এই অ্যাওয়ার্ড অর্জনের মধ্য দিয়ে ভোলার অ্যাওয়ার্ড শূন্যতা পূরণ হল।

Advertisement

এ কে এম আব্দুল্লাহ জানান, আমি যখন ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পরি তখন বাবার হাত ধরে আমার  স্কাউটিংয়ের হাতে খড়ি। বাবা স্কাউট লিডার হওয়ায়  আমার আগ্রহ দেখে আমাকে স্কাউটের বিভিন্ন দীক্ষা দিয়ে আমাকে সহায়তা করতে থাকেন। এরপর ধীরে ধীরে আমি স্কাউট সম্পর্কে নানান রকম জ্ঞান অর্জন ও চর্চা শুরু করি।

এরপর থেকে স্কাউট বিষয়ে আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমার আগ্রহ দেখে আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকেরাও আমাকে বিভিন্ন পর্যায়ে স্কাউটে অংশগ্রহণ করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এরপর আমি জাতীয় পর্যায়ে স্কাউটে অংশগ্রহণ করি। সেখান থেকে আমি আমার জীবনের সেরা সাফল্য অর্জন করি। এটা আমার একার সাফল্য নয়, এটা স্কুলের সবার সাফল্য। আমাকে যারা  সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। 

তার বাবা মো. মনিরুল ইসলাম যিনি  ভোলা জেলা স্কাউটিংয়ের উপ-আঞ্চলিক কমিশনার। জানান, ছেলের এই সাফল্য বাবা হিসাবে আমি গর্বিত। আজকে আমার মনে হয় আমার সন্তান এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে এগোচ্ছে। প্রত্যাকটি বাবার তার সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি  সামাজিক  কার্যক্রম অংশ গ্রহন করা উচিত। তাহলে সন্তানরা সঠিক ভাবে বেড়ে উঠবে। 

‎তার এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান প্রতিষ্ঠান প্রধান অধ্যক্ষ  সাফিয়া খাতুন, জেলা স্কাউট সম্পাদক হাসান মিজানুর রহমান মিঠু, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সজল কুমার দাস, জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, আরো অভিনন্দন জানান বরিশাল অঞ্চল ও সদর দপ্তরের স্কাউট কর্মকর্তা বৃন্দগন। তারা বলেন এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্কাউটে ভোলা আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা
ট্যাগ: ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!