শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসে দ্বিতীয় সোনা ভারতের
এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে আবারও সোনার পদক জিতেছে ভারত। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসের স্বর্ণপদক নিজেদের করে নিয়েছে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল।
ভারতের এই বড় জয়ের পেছনে ব্যাটারদের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। ২০ ওভারে ২১৬ রান তুলতে ভারতীয় ব্যাটাররা হাঁকিয়েছেন ১৩টি ছক্কা। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে এটিই ভারতের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। দলীয় ২১৬ রানও এই সংস্করণে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। গত ডিসেম্বরে তিরুবনন্তপুরমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই করা ২২১ রান ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
.png)
ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন স্মৃতি মান্ধানা। ৪৫ বলে ৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করে মাত্র ৩০ বলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের ৩৭তম ফিফটি তুলে নেন তিনি।
মান্ধানাকে দারুণ সঙ্গ দেন শেফালি ভার্মা। ২৯ বলে ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তিনটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো শেফালির ইনিংসে দ্রুত বাড়তে থাকে ভারতের রান। প্রথম ১০ ওভারেই উদ্বোধনী জুটিতে ৯৯ রান যোগ করেন দুজন। শেষ পর্যন্ত চামুদি প্রাবোদার বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শেফালি।
তিন নম্বরে নেমে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেলেন। প্রথম ১৩ বলে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১০ রান। পরে দুটি বাউন্ডারিতে রান তোলার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও ১৯ রানেই থামতে হয় তাকে।
হারমানপ্রীত আউট হওয়ার পরও ভারতের ব্যাটিংয়ের গতি কমেনি। অন্য প্রান্তে থাকা মান্ধানা তখন এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপে ক্যাচ দিয়ে ৭৯ রানেই থেমে যায় তার দুর্দান্ত ইনিংস। শেষদিকে ঝড় তোলেন রিচা ঘোষ। মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কা। বিশেষ করে শেষ ওভারে রীতিমতো তাণ্ডব চালান রিচা। ওই ওভার থেকেই ২৫ রান তুলে ভারতকে দুইশ রানের গণ্ডি পার করান তিনি।
২১৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক চামারি আতাপাত্থু ২৯ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বাকিদের কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা।
দীপ্তি শর্মা ছিলেন বল হাতে ভারতের সেরা বোলার। মাত্র ৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান তিনি। শ্রী চরণী ও শেফালি ভার্মা নেন দুটি করে উইকেট।
শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫.৪ ওভারে ৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে ১৪৭ রানের বিশাল জয় পায় ভারত।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয়বার সোনার পদক জিতল ভারত। ২০২৩ সালের ফাইনালের পর এবারও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েই স্বর্ণের মুকুট ধরে রাখল তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ৩/২১৬ (স্মৃতি মান্ধানা ৭৯, রিচা ঘোষ ৪৯*, শেফালি ভার্মা ৪৮; চামুদি প্রাবোদা ১/৩৪)
শ্রীলঙ্কা: ১৫.৪ ওভারে ৬৯ (দীপ্তি শর্মা ৩/৬, শ্রী চরণী ২/১৩, শেফালি ভার্মা ২/৩)