বিশ্বকাপের আগের আসর নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের ১২ পর্বের প্রতিবেদনে আজ থাকছে অষ্টম পর্ব-২০০৩: বিতর্কের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, কেনিয়ার চমক।
গণতন্ত্র আদায়ের দাবিতে জিম্বাবুয়েতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভারতীয় খেলোয়াড়দের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে জটিলতা এবং অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের মাদক নেয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়া এমন নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ২০০৩ বিশ্বকাপ। যেখানে প্রথমবারের মত কোন সহযোগী দেশের কোটায় অংশ নিয়ে চমকে দেখায় কেনিয়া। বৈশ্বিক আসরে প্রথমবার অংশ নিয়েই সরাসরি সেমিফাইনালে ওঠে পূর্ব আফ্রিকার দেশটি।
.png)
সেবারের আসরে ওয়ানডে ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ৫০০ উইকেট শিকারি হিসেবে রেকর্ড গড়েন পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম। একই আসরে প্রথম কোন দেশ হিসেবে তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ১৯৮৭ ও ১৯৯৯ সালের পর ২০০৩ সালে শিরোপা জিতে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে অজিরা।
বড় চমক ছিল স্বাগতিক কেনিয়া। ওই আসরে অংশ নেয়া বাকি দলগুলোকে পেছনে ফেলে পূর্ব আফ্রিকার দেশটি সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়। আর সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আয়োজনের কারণেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিশ্বকাপটি। ২০০৩ বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ হয় ৫৪টি। সেবার বাংলাদেশও অংশ নিয়েছিল। কিন্তু শূন্যহাতেই ফিরতে হয়েছিল লাল-সবুজের জার্সিধারীদের।
২০০৩ সালে বিশ্বকাপের অষ্টম আসরের আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে ১৪টি দল অংশ নেয়। যেখানে ১০টি পূর্ণ সদস্য দল ছাড়াও, সহযোগী দেশ হিসেবে কেনিয়া, কানাডা, নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডস অংশ নেয়।
এই আসরে প্রথমবারের মত অভিষেক হয় নামিবিয়ার। আর তাদের বিপক্ষেই বিশ্বকাপের সেরা বোলিং করেন গ্লেন ম্যাকগ্রাথ। ম্যাচটিতে ১৫ রান খরচ করে ৭ উইকেট শিকার করেন তিনি।
আগের আসরের ফরম্যাটেই অনুষ্ঠিত হয় ২০০৩ বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বেই অঘটনের শিকার হয় একাধিক দল। বাদের খাতায় নাম লেখায় পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মত দেশ।
মূলত ইংলিশদের কপাল পোড়ে জিম্বাবুয়ের জন্য। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে পারেনি ইংল্যান্ড। যে কারণে তারা সুপার সিক্স থেকে বাদ পড়ে। আর কানাডা ও কেনিয়ার মত দেশের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশও।
সেমিতে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। পোর্ট এলিজাবেথে প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া দেখে লংকান ঝাঁঝ। কিন্তু বৃষ্টি আর্শীবাদ হয়ে আসে অজিদের জন্য। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি আইনে (কার্টেল ওভার) ম্যাচটি ৪৮ রানে জিতে ফাইনালে উঠে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর ডারবানে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টস জিতে সৌরভ গাঙ্গুলির ১১১ রানে ভর করে ২৭০ রান করে ভারত। জবাবে ১৭৯ রানেই গুটিয়ে যায় কেনিয়া। আর ৯১ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে পা রাখে মেন ইন ব্লুজরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে বসে ২০০৩ বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই। সেবার টস হেরে শুরুতে ব্যাট করে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৩৫৯ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। যেখানে অধিনায়ক রিকি পন্টিং ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। জবাব দিতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় ২৩৪ রানেই থেমে যায় সৌরভ-শচীনদের দৌড়। যার সুবাদে ১২৫ রানের বিশাল জয় নিয়ে তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তোলে অস্ট্রেলিয়া।
শিরোপা না জিতলেও এক আসরে সর্বোচ্চ ৬৭৩ রান করে টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। আর সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন শ্রীলংকার চামিন্দা ভাস। ২৩ উইকেট নিয়েছিলেন এই বাঁ-হাতি।
একনজরে ২০০৩ বিশ্বকাপ
আয়োজক: দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া
চ্যাম্পিয়ন: অস্ট্রেলিয়া
অংশগ্রহণকারী দল: ১৪
মোট ম্যাচ: ৫৪
সর্বোচ্চ রান: ৬৭৩ রান (শচীন টেন্ডুলকার)
সর্বোচ্চ উইকেট: ২৩ উইকেট (চামিন্দা ভাস)।