ঢাকা,  শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ স্পটলাইট ]

বেপরোয়া ইমারত পরিদর্শক শফিউল্লাহর দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

মো. শাহজাহান মো. শাহজাহান
প্রকাশিত: ১৭:১৫, ১ অক্টোবর ২০২৬
বেপরোয়া ইমারত পরিদর্শক শফিউল্লাহর দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক
ইমারত পরিদর্শক শফিউল্লাহ

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (নাউক) কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই ভবন নির্মাণ তদারকি ও পরিদর্শন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এসব প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছেন সংস্থাটির ইমারত পরিদর্শক মো. শফিউল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট সাইট বণ্টনের লিখিত আদেশ ছাড়াই তিনি বিভিন্ন ভবনে গিয়ে পরিদর্শন ও তদারকি করছেন। একই সঙ্গে ভবন মালিকদের কাছ থেকে উৎকোচ দাবির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নাউকে ইমারত পরিদর্শকদের নির্দিষ্ট এলাকা বা সাইট বরাদ্দ দিয়ে লিখিতভাবে দায়িত্ব দেওয়ার বিধান থাকলেও শফিউল্লাহ কোন লিখিত আদেশের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ভবন বা এলাকায় পরিদর্শনে যাচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়। ফলে তার পরিদর্শনের প্রশাসনিক ও আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Advertisement

প্রশ্ন উঠেছে, লিখিতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত না হয়েও কোনো ইমারত পরিদর্শক যদি কোনো ভবনে গিয়ে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন, তাহলে সেই পরিদর্শনের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন, নোটিশ কিংবা নির্মাণকাজ বন্ধের সুপারিশের বৈধতা কী? শফিউল্লাহর পরিচালিত পরিদর্শন কার্যক্রমের পেছনে সুনির্দিষ্ট লিখিত আদেশ বা ক্ষমতা অর্পণের নথি রয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে আসেনি।

অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয়, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ কিংবা নির্মাণকাজে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভবন মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হয়—এমন অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

শফিউল্লাহর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয় বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের ভাষ্য, রাজউকে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধেও ভবন পরিদর্শন ও তদারকি ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তার তত্ত্বাবধানে থাকা ভবনগুলোর পরিদর্শন প্রতিবেদন, নোটিশ, সংশ্লিষ্ট নথি এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা জরুরি।

সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন
ইমারত পরিদর্শক শফিউল্লাহর চাকরির আয়ের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, উত্তরায় তার নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণখানে একাধিক বাড়ি ও জমি থাকার অভিযোগও রয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া নথির দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণখান-১৬ মৌজার খতিয়ান নং ৩৬৫৬ এবং দাগ নং ৭৮৮৬-এ ০.৯৯ শতাংশ আবাসিক জমিতে শফিউল্লাহর মালিকানার তথ্য রয়েছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস এবং তার আয়কর নথিতে সেগুলো যথাযথভাবে প্রদর্শিত হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

এ কারণে শফিউল্লাহর সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের দলিল এবং ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে তার নামে থাকা সম্পদের সঙ্গে বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন।

তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীদের মতে, একজন ইমারত পরিদর্শকের কাজ হওয়া উচিত নির্ধারিত বিধি ও লিখিত দায়িত্বের ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ তদারকি করা। কিন্তু দায়িত্ব বণ্টনের স্বচ্ছতা না থাকলে পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়।

শফিউল্লাহ কোন কোন ভবন পরিদর্শন করেছেন, কোন আদেশের ভিত্তিতে করেছেন, কতটি নোটিশ দিয়েছেন, কতটি নির্মাণকাজ বন্ধের সুপারিশ করেছেন এবং এসবের পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কী হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা উৎকোচ দাবির অভিযোগ, সম্পদের তথ্য এবং পরিদর্শন-সংক্রান্ত নথি নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগের সত্যতা না মিললে শফিউল্লাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও অবসান হওয়া জরুরি।

নাউকের মতো নতুন একটি নগর উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের শুরুতেই পরিদর্শন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, লিখিত দায়িত্ব বণ্টন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবন নির্মাণ তদারকির পুরো ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই ইমারত পরিদর্শক মো. শফিউল্লাহর কার্যক্রম, পরিদর্শন নথি এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!