ঢাকা,  শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচবেন যেভাবে

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০১, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচবেন যেভাবে
সংগৃহীত ছবি

ইবাদতের উদ্দেশ্য মানুষের প্রশংসা পাওয়া নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তবে মানুষের মন নানা ধরনের প্রবণতায় প্রভাবিত হয়। আল্লাহর জন্য শুরু করা কোনো আমলের মধ্যেও কখনো কখনো মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ঢুকে পড়তে পারে। ইসলামের পরিভাষায় এটিই রিয়া বা লোক দেখানো।

নামাজে অন্য কেউ দেখছে কি না, দান করার বিষয়টি মানুষ জানল কি না, কোরআন তিলাওয়াত শুনে কেউ প্রশংসা করবে কি না—এ ধরনের চিন্তা যদি ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যকে প্রভাবিত করে, তাহলে নিয়তের বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Advertisement

ইসলামে আমলের বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিয়তের বিশুদ্ধতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই একজন মুমিনের উচিত, প্রতিটি ইবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা।

কোরআনে রিয়ার ব্যাপারে সতর্কবার্তা

আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তারা নামাজে দাঁড়ায় অলসভাবে এবং মানুষকে দেখানোর চেষ্টা করে। এ বিষয়ে সুরা নিসার ১৪২ নম্বর আয়াতে সতর্ক করা হয়েছে।

সুরা আল-মাউনেও লোক দেখানো ইবাদতের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এমন নামাজিদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন এবং লোক দেখায়। (সুরা আল-মাউন, আয়াত ৪-৬)

অর্থাৎ শুধু ইবাদত করা যথেষ্ট নয়; সেই ইবাদতের উদ্দেশ্যও বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি।

লোক দেখানো দানও ক্ষতির কারণ

রিয়া শুধু নামাজের ক্ষেত্রে নয়। দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, দ্বীনি শিক্ষা অর্জন, মানুষের সেবা—সব ধরনের নেক আমলেই নিয়তের বিশুদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ।

সুরা বাকারার ২৬৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দান করে খোঁটা বা কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের দান নষ্ট না করতে বলেছেন। একই আয়াতে লোক দেখানোর জন্য সম্পদ ব্যয়কারীর উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে।

আয়াতে এমন একটি মসৃণ পাথরের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যার ওপর সামান্য মাটি ছিল। প্রবল বৃষ্টিতে সেই মাটি ধুয়ে গেলে পাথরটি যেমন পরিষ্কার হয়ে যায়, তেমনি রিয়ার কারণে বাহ্যিকভাবে করা আমলের প্রতিদানও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও লোক দেখানো আমলের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তার সেই উদ্দেশ্য প্রকাশ করে দেবেন।

বেশি আমল হলেও নিয়ত ভুল হলে

সহিহ মুসলিমের ১৯০৫ নম্বর হাদিসে রিয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে। এতে এমন তিন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যাদের আমল বাহ্যিকভাবে বড় ছিল—একজন যুদ্ধে নিহত হন, একজন জ্ঞান অর্জন ও কোরআন শিক্ষা করেছিলেন এবং অন্যজন প্রচুর সম্পদ দান করেছিলেন।

কিন্তু তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যের মধ্যে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল। প্রথমজন চেয়েছিলেন মানুষ তাকে সাহসী বলুক, দ্বিতীয়জন চেয়েছিলেন তাকে আলেম ও কোরআন পাঠকারী হিসেবে পরিচিত করা হোক এবং তৃতীয়জন চেয়েছিলেন মানুষ তাকে দানশীল বলুক। হাদিসে তাদের প্রত্যেকের কঠিন পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ থেকে বোঝা যায়, আমলের পরিমাণ যত বেশি হোক, নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে তা মানুষের আখিরাতের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

রিয়া থেকে বাঁচবেন যেভাবে

লোক দেখানো থেকে বাঁচতে নিয়মিত নিজের নিয়ত পর্যালোচনা করা জরুরি। নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—‘কেউ যদি আমার এই আমলের কথা না জানে, তবুও কি আমি তা করব?’

এ জন্য কিছু নেক আমল গোপনে করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। যেমন—গোপনে সদকা করা, নির্জনে তাহাজ্জুদ আদায় করা, একান্তে দীর্ঘ সিজদা করা কিংবা কাউকে না জানিয়ে কারও উপকার করা।

এ ধরনের গোপন আমল বান্দার সঙ্গে আল্লাহর একান্ত সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সহায়তা করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে। (সুরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত ৫)

তাই প্রতিটি ইবাদতের আগে ও পরে নিজের নিয়ত যাচাই করা এবং মানুষের প্রশংসার পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত থেকে হেফাজত করুন এবং সব নেক আমল কবুল করুন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!