সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহিদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি পুরো শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সক্রিয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো শক্তিশালী করা হবে।
.png)
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ভ্রমণ তালিকায় শীর্ষে থাকা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আরো পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই সৈকতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে এবং অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হবে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন।
মাদক সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে প্রথমেই উখিয়া-টেকনাফকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘মাদক রুট’ বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের প্রসার, প্রচার ও বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার শহরে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগে আরো জনবল দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অটোরিকশা বা টমটমের সংখ্যা আর বাড়তে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে নতুন কোনো যানবাহনের অনুমতি দেওয়া হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না এবং ধীরে ধীরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মব সংস্কৃতি বাংলাদেশে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এটি নির্মূল করা হবে।
তিনি আরো বলেন, অপরাধীরা দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সভায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, মাদক প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কক্সবাজারে স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।