ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

বাড়ছে অনলাইন জুয়া, প্রতিরোধে আসছে নতুন আইন

আব্দুল্লাহ আল মামুন 
প্রকাশিত: ১৭:০১, ৩০ মে ২০২৩
বাড়ছে অনলাইন জুয়া, প্রতিরোধে আসছে নতুন আইন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সজাগ দৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও অনলাইন জুয়া বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই এই জুয়া খেলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতারক চক্র মূলহোতা হিসেবে কাজ করছে। তারা মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসে জুয়ার টাকা লেনদেন এবং সাধারণ মানুষকে টাকা বা ডলারের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় উৎসাহ দিচ্ছে। তারা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে (ফেসবুক) ব্যবহার করছে। তাদের প্রতারণার ফাঁদে প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে।

জানা গেছে, জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন করছে সরকার। এজন্য নতুন জুয়া আইন ২০২৩ এর খসড়া করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। মূলত ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্র্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ যুগোপযোগী করে নতুন আইনটি করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইন হালনাগাদ করতে জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব লিপিকা ভদ্রকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল। কমিটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আইনের খসড়াটি জমা দেয়।

Advertisement

খসড়া আইনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মতামত শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুয়া আইনটি দেড়শো বছরেরও বেশি পুরনো। এ আইন দিয়ে বর্তমানে জুয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। জুয়ায় তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়টি যুক্ত হয়েছে, সেটিও আইনের আওতাভুক্ত নয়। একইসঙ্গে শাস্তিও খুবই কম। তাই জুয়ার আধুনিক বিষয় পর্যালোচনা করে নতুন আইন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শাস্তিও কয়েকগুণ বাড়ানো হচ্ছে।

আগের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ৫০০ টাকা জরিমানা ও তিন মাসের জেল। এখন খসড়া আইনে জুয়ার শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম রেজাউল মোস্তফা কামাল বলেন, নতুন আইনে অনলাইন জুয়া অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কারণ, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ জুয়ার খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে বহু মানুষ। অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, খুনের ঘটনাও ঘটছে। পাতানো খেলা বা ম্যাচ ফিক্সিং এর কথাও শোনা যায়। তাই এসব বিষয় খসড়া আইনে যুক্ত করা হয়েছে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, নতুন জুয়া আইনের খসড়া বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার ও মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা অনেক মন্ত্রণালয়ের মতামত পেয়েছি, আরো কিছু মতামত পেলে আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং হবে। এরপর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। আশা করছি, শিগগিরই আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং করতে পারবো।

তিনি বলেন, পুরনো আইনটি যেহেতু যুগোপযোগী করা হচ্ছে, তাই ২০২৩ সালের আলোকে যা যা রয়েছে তার সবই আমরা অন্তর্ভুক্ত কররো।

খসড়া আইন অনুযায়ী ‘জুয়া খেলা’ বলতে বুঝাবে সরকার বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন ছাড়া সব ধরনের বাজি ধরা, অর্থ কিংবা পণ্যের বিনিময়ে প্রতিযোগিতামূলক সব ধরনের হাউজি, সব ধরনের লটারি, অর্থ বা আর্থিক মূল্যমানের কোনো পণ্যের বিনিময়ে ভাগ্য কিংবা ভাগ্য ও দক্ষতার সংমিশ্রণে কোনো আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য কোনো অনলাইন বা ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যমে খেলাধুলা বা এ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে বাজি ধরা, বাজি ধরার জন্য নগদ বা ক্যাশবিহীন ব্যাংকিং লেনদেন (যেমন ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি) বা মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন (যেমন- বিকাশ, রকেট, নগদ, উপায়, পেপাল ইত্যাদি) বা বিট কয়েনসহ অন্য যে কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি বা অন্য কোনো ধরনের ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করা, তবে তা অনলাইন বেটিং বা জুয়া হবে।

খসড়ায় আরো বলা হয়, মালিক বা পরিচালনাকারী হয়ে কোনো ঘর, সাইবার ক্যাফে বা এমন অন্য কোনো স্থানকে অনলাইন বেটিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়, তাহলে তা এ আইনের অধীনে অনলাইন বেটিং বলে গণ্য হবে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘পাতানো খেলা (ম্যাচ ফিক্সিং)’ বলতে আগে থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক খেলা বা খেলার অংশ বিশেষের ফল নির্ধারণ করা খেলাকে বুঝাবে এবং এটা স্পট ফিক্সিংকে (তাৎক্ষণিকভাবে কোনো খেলা বা খেলার অংশবিশেষের ফল নির্ধারণ) অন্তর্ভুক্ত করবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনোনীত যেকোনো অফিসার বা জেলা পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেয়ে ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণ বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থানে দিনে বা রাতে যে কোনো সময় (প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করে) প্রবেশ করতে এবং ঐ সময় ক্রীড়ারত ব্যক্তিদের নিজে বা ভারপ্রাপ্ত অফিসার গ্রেফতার করতে পারবেন। একই সঙ্গে জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী আটক করতে পারবেন।

খসড়া আইন অনুযায়ী প্রকাশ্য স্থান, ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণে, প্রাচীরবেষ্টিত স্থান বা যানবাহন বা ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যমে যে কেউ জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে অর্থ আদান-প্রদান করলে তিনি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
ট্যাগ: জুয়াড়ি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!