খসড়া আইনে জুয়ার শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। আগের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ৫০০ টাকা জরিমানা ও তিন মাসের জেল। তবে সরকার চাইলে পর্যটন বা বিশেষায়িত এলাকা, কোনো হোটেল বা ক্লাবকে এ আইনের আওতামুক্ত রাখতে পারবে বলেও খসড়ায় জানানো হয়েছে।
জননিরাপত্তা বিভাগের আইন ও শৃঙ্খলা অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান জুয়া আইনটি দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো। এ আইন দিয়ে হাল আমলের জুয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ এখন জুয়ায় তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়টি যুক্ত হয়েছে, যা আইনের আওতাভুক্ত নয়। একইসঙ্গে শাস্তিও খুবই কম। তাই জুয়ার আধুনিক পর্যায়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন আইন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে শাস্তিও কয়েকগুণ বাড়ানো হচ্ছে।
.png)
খসড়া আইন অনুযায়ী, ‘জুয়া খেলা’ বলতে বোঝাবে সরকার বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন ছাড়া সব ধরনের বাজি ধরা, অর্থ কিংবা পণ্যের বিনিময়ে প্রতিযোগিতামূলক সব ধরনের হাউজি, সব ধরনের লটারি, অর্থ বা আর্থিক মূল্যমানের কোন পণ্যের বিনিময়ে ভাগ্য কিংবা ভাগ্য ও দক্ষতার সংমিশ্রনে কোনো আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য কোনো অনলাইন বা ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যমে খেলাধুলা বা এ সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয়ে বাজি ধরলে বা বাজি ধরার জন্য নগদ বা ক্যাশবিহীন ব্যাংকিং লেনদেন বা মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন বা বিট কয়েনসহ অন্য যেকোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি বা অন্য কোনো ধরনের ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করলে তা অনলাইন বেটিং বা জুয়া হবে।
এছাড়া নিজ বা অন্যের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অনলাইন বেটিং সাইট বা অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করেন বা হোস্টিং দেন বা জুয়ার এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বা মাসিক ভাড়া বা অন্য কোনো প্রতিশ্রুতিতে দেশে বা বিদেশে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন বা এ উদ্দেশ্যে পরামর্শের জন্য ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনা করেন তবে তাও অনলাইন জুয়ার আওতাভুক্ত হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
‘পাতানো খেলা (ম্যাচ ফিক্সিং)’ বলতে আগে থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক খেলা বা খেলার অংশ বিশেষের ফলাফল নির্ধারণ করে খেলাকে বোঝাবে এবং এটা স্পট ফিক্সিংকে (তাৎক্ষণিকভাবে কোন খেলা বা খেলার অংশ বিশেষের ফলাফল নির্ধারণ) অন্তর্ভুক্ত করবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল বা সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
পাতানো খেলার খেলোয়াড়, আয়োজনকারী বা অন্য যারা এতে অংশগ্রহণ করেছেন বা ঐ খেলাকে পাতানো করতে যারা বাজি ধরেছেন, সবাই এ আইনের অধীনে অপরাধী বলে গণ্য হবেন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
খসড়া আইন অনুযায়ী, প্রকাশ্য স্থান, ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণে, প্রাচীরবেষ্টিত স্থান বা যানবাহন বা ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যমে যে কেউ জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে অর্থ আদান-প্রদান করলে তিনি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আইনের অধীনে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার কোনো সাধারণ জুয়ার আখড়ায় প্রবেশ করে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে ঐ ব্যক্তি নিজের নাম ঠিকানা জানাতে অস্বীকার করলে বা মিথ্যা নাম বা ঠিকানা দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট দোষী সাব্যস্ত করলে যেকোনো যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ ধার্য করতে পারবেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে ম্যাজিস্ট্রেট তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারবেন।