ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

নিজ দেশে ফিরতে রোহিঙ্গাদের আকুতি

ফরহাদ আমিন, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত: ১৬:৪১, ২৬ আগস্ট ২০২০
নিজ দেশে ফিরতে রোহিঙ্গাদের আকুতি
রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতনে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ আশ্রয় দিলেও মিয়ানমার সরকারের নানা টালবাহানায় আশ্রিতদের ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

নিজ দেশে ফেরার আগ্রহ থাকলেও প্রত্যাবাসন অনিশ্চয়তায় চরম হতাশায় রোহিঙ্গারা। এখন উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। অনুপ্রবেশের তিন বছর হলেও মিয়ানমার সরকারের অনীহায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি। নিজ দেশে ফিরতে রোহিঙ্গারা এখন কেবল আকুতি জানাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সময় যতই গড়াচ্ছে ততই রোহিঙ্গাদের কারণে বাড়ছে নানামুখী সংকট। গত তিন বছরে মিয়ানমারের চরম অনাগ্রহের কারণে ওই রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে পারেনি। যদিও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়ভাবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। 

আরো পড়ুন >> সৎ মায়ের হাতে ফাটলো মাথা, শরীরেও জখম

২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৯-এর আগস্টে দুই দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমার ব্যর্থ হওয়ার কারণে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানায়। 

বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার এ বিষয়ে আরো অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এদিকে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা সংকট, আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে সংঘাতের। এরই মধ্যে উজাড় হয়েছে বন, পাহাড়, কৃষি জমি ও কাজ হারাচ্ছে স্থানীয় শ্রমিকরা। তাই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার দাবি তাদের।

শালবাগান রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা মো. হোসেন বলেন, আমাদের অধিকার নিয়ে আমরা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চাই। আমাদের দেশে আমরা কখন, কীভাবে ফিরে যেতে পারবো এই চিন্তায় আছি। এখানে থাকতে আর মন চাচ্ছে না। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারতেছি না। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ আমাদের বিচারটা করে দিলে আমরা দ্রুত নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারবো। এখন তিন বছর হয়ে গেছে। বার্মার সরকার আমাদের মানুষদের মেরে ফেলছে।

আরো পড়ুন >> গা ঢাকা দিয়েছেন প্রদীপের স্ত্রী চুমকী

তিন বছর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া উখিয়ার কুতুপালং চার নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. হামিদ হোসেন বলেন, মিয়ানমার সরকার নির্যাতন করেছে তাই প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় গ্রহণ করি। বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দিয়েছে; তাই আমরা এখানে থাকতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের নিজ দেশে যেভাবে খেতে-চলতে পেরেছি; তা কিন্তু এখানে পারছি না। কারণ এটা আমাদের দেশ নয়। এখন নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। কারণ দেশের জন্য খুবই খারাপ লাগছে।

ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গা যুবক সলিমুল্লাহ বলেন, মিয়ানমার থেকে কুতুপালং এসেছি তিন বছর হলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারলাম না। যদি বিশ্ববাসী মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা করে আমাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতো; তাহলে মিয়ানমারে নিজ ভিটে-মাটিতে ফিরে যেতাম।

উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এই অবস্থা যদি চলমান থাকে তাহলে কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের বসবাস করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা।

আরো পড়ুন >> মায়ের সামনে ‘প্যান্ট খুলে’ মেয়েকে হুমকি দেয়া সেই বখাটে আটক

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। আমরা যাই করি না কেন আমাদের প্রধান ও মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রত্যাবাসন। এই প্রত্যাবাসন যেন অতি শিগগিরই শুরু করা যায় এবং রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে পারি এ ব্যাপারে সরকার সবর্দা সচেষ্ট করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ২০১৮ সাল থেকে কয়েক দফায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯১৯ জন রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আলোচনা ছাড়া মিয়ানমার সরকার আজো কাউকে ফেরত নেয়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম/এইচএন/টিআরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!