করোনার প্রভাবে তিন মাসে কমেছে ৪৬ লাখ মোবাইল গ্রাহক
দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরুর পর থেকে মোবাইল খাতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত তিন মাসে দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের সংযোগ কমেছে প্রায় ৪৬ লাখ।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লকডাউন শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে যেখানে মোবাইল সংযোগ সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৬১ লাখ ১৪ হাজার। সেখানে মে মাস শেষে দেশে মোট মোবাইল সংযোগ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ১৫ লাখ ৬ হাজার। সে হিসাবে মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসে সংযোগ কমেছে ৪৬ লাখ ৮ হাজার। এছাড়া মোবাইল অপারেটরগুলোর ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা হিসাব করে দেখা গেছে গত তিন মাসে অপারেটরগুলোর ২ লাখ ৮ হাজার গ্রাহক কমেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিনা মূল্যে অথবা প্রায় বিনা মূল্যে যেসব ইন্টারনেট প্যাকেজ দেয়া ছিলো তাতে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থাটির মতে, এ সেবা নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিটিআরসি ইন্টারনেট সরবরাহকারীদের গত ১৪ জুলাই এসব সেবা বন্ধের চিঠি দেয়। পরদিন, অর্থাৎ ১৫ জুলাই থেকে নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়।
.png)
মে মাসে প্রকাশিত বিটিআরসির প্রতিবেদনে দেখা গেছে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৪০ লাখ ২৮ হাজার। গত ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ ৩৬ হাজার। মার্চে তা বেড়ে হয় ৯ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার। আর এপ্রিলে প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক কমে তা দাঁড়ায় ৯ কোটি ৩১ লাখ ১ হাজারে। সে হিসাবে গত তিন মাসে অপারেটরগুলোর গ্রাহক কমেছে ২ লাখ ৮ হাজার।
এসব বিষয়ে মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, এ বছরের শুরু থেকে মোবাইল গ্রাহক কমে আসার বিষয়টা আমরা লক্ষ্য করছি। করোনার কারণে এটা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। দেশের অন্যান্য ব্যবসার মতো মোবাইল খাতের নিম্নগতির কথা বলে আসছি আমরা। যদিও এখন সব ধরনের ব্যবসা, শিক্ষা, বিনোদন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজে মোবাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। তারপরও অন্যান্য ব্যবসা যখন প্রভাবিত হয় তখন তা মোবাইল খাতকেও প্রভাবিত করে।