ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা: রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫১, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা: রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ
ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় আগামী ২৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যতালিকায় মামলাটি ওঠার পর রায় ঘোষণার জন্য এ দিন নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই পলাতক। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন মামলা পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ও অবস্থানকে সমর্থন করা, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় এক বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক নির্দেশনা ও সাংগঠনিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। হানিফের বিরুদ্ধে টেলিফোনে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সমর্থনে টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের রায়ে জানা যাবে।

প্রসিকিউশন গত বছরের ৫ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত ২৩ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের পর আবারও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় আন্দোলন চলাকালে নিহত ছয়জন হলেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুত্তাকিন ও মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।

আগামী ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!