বুধবার দুইদিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত সোমবার আসামিদের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকি আল ফারাবী।
.png)
মামলা সূত্রে জানা গেছে, কম দামে মাংস বিক্রি করায় খলিলুর রহমান ও ন্যায্যমূল্যে মাংস বিক্রেতাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেন মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা। ১৮ জানুয়ারি খলিলকে ফোন করে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয়। এছাড়া কম দামে মাংস বিক্রি করলে তাকে ও তার ছেলেকে দুইদিনের মধ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০ জানুয়ারি খলিলুর রহমান শাজাহানপুর থানায় জিডি করেন। এরপর শনিবার রাতে র্যাব ঢাকার আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা দায় স্বীকার করেছেন।
আসামি নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের চারিগ্রাম এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেটের ব্যবসা করতেন। পরিচিত এক ব্যক্তিকে ফোনে খলিলকে হত্যার হুমকি দিতে বলেন তিনি। বিনিময়ে ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নুরুলের কথামতো খলিলকে ফোনে হুমকি দেন ইমন।
গ্রেফতারকৃত নুরুলের নামে আশুলিয়া থানায় হত্যার হুমকি, চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটির বেশি মামলা রয়েছে। আর ইমন দীর্ঘদিন ধরে নুরুলের ডিশের ব্যবসার কাজে সহায়তা করতেন।
র্যাব জানায়, মাংস ব্যবসায়ী খলিল তার ‘খলিল গোস্ত বিতানের’ মাধ্যমে ১৯ নভেম্বর থেকে ৫৯৫ টাকায় প্রতি কেজি মাংস বিক্রি শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে যা ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলে। এরপর আরো কিছু ব্যবসায়ী প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬০০ টাকায় বিক্রি শুরু করেন।
গত ২২ ডিসেম্বর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন বৈঠক করে ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যেই মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা কিছুদিন আগে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি হাটে ন্যায্যমূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করায় এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করে।