ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এবি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ৩ অক্টোবর ২০২১
১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এবি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে
ফাইল ফটো

১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের (এবি ব্যাংক) কাকরাইল শাখার সাবেক সাবেক এভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার আব্দুর রহিম এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল ইসলামের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 

এদিন দুই ব্যাংক কর্মকর্তা আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এসময় দুদক জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ৩ আগস্ট হাইকোর্টে থেকে আগাম জামিন নিতে আবেদন করেন তারা। তবে হাইকোর্ট তাদের জামিন না দিয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য নির্দেশ দেন।

১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৮ জুন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের (এবি ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামীম আহমেদ, মসিউর রহমান এবং এরশাদ ব্রাদার্স কর্পোরেশনের মালিক এরশাদ আলীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এবি ব্যাংকের ইভিপি ও হেড অব সিআরএম ওয়াসিকা আফরোজী, ভিপি ও সিএমআরের সদস্য মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান (স্বপন), সাবেক এসইভিপি ও হেড অব সিআরএম সালমা আক্তার, এভিপি ও সিআরএম সদস্য এমারত হোসেন ফকির, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার তৌহিদুল ইসলাম, এসভিপি ও সিআরএমের সদস্য শামীম-এ-মোরশেদ, ভিপি ও সিআরএমের সদস্য খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, এভিপি ও সিআরএমের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, সাবেক ভিপি ও ক্রেডিট কমিটির সদস্য মাহফুজ-উল-ইসলাম, এবি ব্যাংকের কাকরাইল শাখার ইসলামী ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক ইভিপি ও শাখা ম্যানেজার এ.বি.এম আব্দুস সাত্তার, সাবেক এভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার আব্দুর রহিম, বর্তমান এসভিপি ও সাবেক রিলেশনশিপ ম্যানেজার আনিসুর রহমান, ভিপি শহিদুল ইসলাম ও এভিপি রুহুল আমিনকে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে একে অন্যের সহায়তায় জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে জাল কার্যাদেশ প্রস্তুত করে ছয়টি জাল কার্যাদেশের বিপরীতে ১৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া মামলায় উল্লিখিত এবি ব্যাংক কাকরাইল শাখার কর্মকর্তারা প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া সাতটি অবৈধ ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আরো ১০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করে, তা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেন। সব মিলিয়ে আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান কতিপয় কর্মকর্তা জালিয়াতির মাধ্যমে নকল কাগজপত্র তৈরি করে পরস্পর যোগশাজশে ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে এ টাকা আত্মসাৎ করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!