ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

[ লাইফস্টাইল ]

কেবল সৌন্দর্য নয়- সুস্থতায়ও আছে ফুলের ভুমিকা

মেহেবুবা ওয়ারিশা
প্রকাশিত: ১৪:১৭, ৫ নভেম্বর ২০২৬
কেবল সৌন্দর্য নয়- সুস্থতায়ও আছে ফুলের ভুমিকা
আপনাকে আয়রন, ভিটামিন ‘এ’ বা ‘সি’, ক্যালসিয়াম, কপার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক ইত্যাদি লম্বা লিস্টের ওষুধ খেতে হয় ? এত মুঠো মুঠো ওষুধ খেতে আপনার ভালো লাগে না হয়তো।  ট্রাই করুন জাফরান ফুল

ফুলের দিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়। ফুল শুধু শোভাবৃদ্ধির জন্যই না, কিছু ফুল রয়েছে যা শোভাবৃদ্ধির পাশাপাশি অনেক রোগও দূরে রাখে। 

হাজারো রোগমুক্তির উপায় লুকিয়ে রয়েছে এই ফুলে! ফুলের ভিতরে ক্যারোটিনয়েডস, ফ্ল্যাভানয়েডস, ফেনোলিক অ্যাসিড, অ্যান্থোসায়ানিনস রয়েছে। এছাড়াও, প্রোটিন, ক্যারোটিন, তেল, ভিটামিন এবং স্যাকারাইড জাতীয় পুষ্টিগুলিও ফুলের অভ্যন্তরে অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই সমস্ত উপাদান সাধারণত পাতাযুক্ত সবজির ভিতরে পাওয়া যায়। আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান তবে আপনি এই ফুলগুলিও ব্যবহার করতে পারেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন ফুলগুলি সঠিক এবং কোনটি নয়।

সাধারণত গাছের ডাঁটা, পাতা খেলেও ফুল খাওয়া হয় না। চলুন জেনে নিন এমন কিছু ফুলের নাম যা আপনার শরীরকে অনেক রোগ থেকে মুক্তি দিবে।

কুমড়ো ফুল
কুমড়োর ফুল সিদ্ধ করে, বেটে, রান্না করে কিংবা ভেজে খাওয়া হয়। এ ফুল অবশ্য কাঁচাও খাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

ল্যাভেন্ডার
ল্যাভেন্ডার দীর্ঘকাল ধরে চাষ করা হচ্ছে। এই ফুলের ভিতরে অনেকগুলি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মাধ্যমে এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করতে সহায়তা করে। এছাড়াও, এটি বিভিন্ন ধরণের সংক্রমণ এবং পেশীগুলির স্প্যামগুলিও দূর করতে পারে। এ ছাড়া এটি চুলের জন্যও উপকারী বলে বিবেচিত হয়। এটি বেকড রুটি, সালাদ সজ্জা এবং মিষ্টান্ন তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।

মহুয়া ফুল 
মধু, জ্যাম, জুস আরো কত কী বানানো হয় এই ফুল থেকে। শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন এই ফুল খেলে। দৃষ্টিশক্তি ও হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

রোজমেরি
রোজমেরি অন্যান্য ফুলের থেকে খুব আলাদা। এটি সাধারণত গার্নিশিং হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, এবং ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি ছাড়াও রোজমেরি লোহার একটি ভাল উত্স হিসাবে বিবেচিত হয়। এটা খুবই সুস্বাদু।

রডোডেনড্রন  
ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ এই অপূর্ব সুন্দর ফুল। ডায়াবেটিসের রোগীদের পথ্য হতে পারে রডোডেনড্রন।

গোলাপ ফুল  
মানসিক চাপ, ওজন কমাতে সাহায্য করে। চায়ে গোলাপের পাঁপড়ি ফুটিয়ে খেলে উপকার পাবেন। শরীরে তাপ দূর করে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

গাঁদা ফুল
কয়েক দশক ধরে গাঁদা ফুল ভারতে উপাসনার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এগুলি ছাড়াও এটি বিভিন্ন ধরণের সজ্জাতে ব্যবহৃত হয়। এই ফুলের অনেক প্রজাতির উপস্থিতি রয়েছে তবে সেগুলি সবই খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায় না। ফরাসি গাঁদা বা জিন গাঁদা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এর ভিতরে পাওয়া অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্যগুলি পেট সম্পর্কিত সমস্যা মোকাবেলায় সক্ষম।

পদ্ম ফুল 
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আয়ুর্বেদ হিসেবে পদ্ম ফুল নানা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কাশি, জ্বর কমাতে সাহায্য করে। হার্ট ও কিডনি ভালো রাখে।

মাওয়াল ফুল
ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ বলে অস্টিওপোরোসিস রোগে পথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফাইবার ও মিনারেল পরিপূর্ণ বলে হজমশক্তি বাড়ায়। ভিটামিন কে এবং পটাসিয়ামের কারণে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমায়।

জুঁই
ঘরে ঘরে সাজসজ্জার জন্য জুঁই ফুলগুলি সাধারণত লোকেরা ব্যবহার করে। এ ছাড়া স্বাদ বাড়াতে অনেক মিষ্টি খাবারে জুঁই ফুল ব্যবহার করা হয়। এই ফুলের অভ্যন্তরে অনেক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য উপস্থিত রয়েছে যা বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় কাজ করে।

বকফুল  
বকফুল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বকফুলের বড়া এমনিতে খুবই উপাদেয় এক খাবার।

সজনে ফুল 
ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার, প্রোটিনে ভরপুর এই ফুলের উপকারিতা চমকে দেয়ার মতো। ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা আছে বলে সর্দি-কাশি-জ্বর থেকে রেহাই দিতে পারে।

জবা ফুল
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেলে পরিপূর্ণ এই ফুল। ক্যালোরি কম, ফাইবার বেশি বলে ওজন হ্রাসে সাহায্য করে।

সূর্যমুখী
সূর্যমুখী যত বেশি সুন্দর দেখাবে ততই তত উপকারী। এই ফুলের ভিতরে অনেক খনিজ এবং ভিটামিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া ফ্ল্যাভোনয়েডসও এতে উপস্থিত রয়েছে। কেবল সূর্যমুখীর ফুলই নয় এর ডালপালা এবং কুঁড়ি সরাসরি ব্যবহার করা হয়। এই ফুলটি অনেক খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

কোন ফুল আর তার গুনাগুণ জানেন কি ?

ফুলের রানি গোলাপ। কাঁটা আছে ঠিক, কিন্তু বইয়ের ভাঁজে শুকনো এই গোলাপই তো একসময় আপনার অ্যাড্রিনালিনের গতি বাড়িয়েছে। আবার ইতিহাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধও ‘গোলাপের যুদ্ধ’ নামে খ্যাত। তাই লাল, হলুদ, গোলাপি, সাদা এমনকী কালো গোলাপ নিয়েও আলাদা আলাদা মানে করে নেন মানুষজন। এক এক রঙের মানে এক একরকম। 

এই গোলাপই আপনার চা, ডেজার্টে পড়লে তার গুণ পাওয়া যায় সহজেই। আপনি মাঝেমাঝেই ডিপ্রেশনে ভোগেন, বা মাথা ধরে কিংবা স্টমাক আপসেট হয়? দৌড়োদৌড়ির জীবনে এগুলো আজকাল নিত্যসঙ্গী। জানেন কী এই সমস্যাগুলোয় যখন আপনি জেরবার, অফিস যেতে রোজ লেট বা খিটখিটে মেজাজে প্রেমিকের সঙ্গে গণ্ডগোল, তখন গোলাপের গুণই আপনাকে তরতাজা রাখবে। 

কনস্টিপেশন বা হজমের গোলমালও তাড়াবে এই ফুলের রানিই। তাই গোলাপ ফুল আনুন বাড়িতে, তবে তার জায়গা আর ফুলদানিতে সীমাবদ্ধ নয়।

ড্যানডেলিয়ন, আরেকটা ফুল। দেখলেই মন ভালো হয়ে যাবে আপনার।  হলুদ ঝিরঝিরে পাপড়ির এই ফুল কখনও এনে দেখুন বাড়িতে। দেখে মন খারাপ সারবেই। সঙ্গে আর কী কী গুণ আছে এই ফুলের সেটা জেনে নিন। বহুযুগ ধরেই এই ফুল ব্যবহৃত হয়েছে শরীরের জ্বালা-পোড়া কমাতে। এতে থাকা প্রিবায়োটিক এবং অ্যান্টিহাইপারগ্লাইসেমিক প্রপার্টি আপনার লিভারকে সুস্থ রাখে। 

জ্যাম, সিরাপে এই ড্যানডেলিয়ন ব্যবহার নতুন কিছু নয় তবে চাইলে আপনি কাঁচাও চিবোতে পারেন এই ফুল। উপকার পাবেনই। আরও একটা উপকার জানলে হয়তো আপনি আপনার বাড়িতে লাগিয়ে ফেলবেন ড্যানডেলিয়ন। 

ওজন থেকে দূরে যেতে চাইছেন? আর ওজন এসে আপনাকে জড়িয়ে ধরছে? এই ফুল গরম জলে ফুটিয়ে সেই জল খান, ব্যাস স্লিম-ট্রিম আপনি, ঠিক যেমনটা চান।

ক্যালেণ্ডুলার মতো প্রাণবন্ত ফুলের আবার যত কারিকুরি আপনার ত্বকের উপর।  কোথাও জ্বালা-পোড়ায় যেসব ক্রিম লাগান তাতে থাকে ক্যালেণ্ডুলার গুণাগুণ।  কারণ এতে থাকে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি।

ক্যামোমাইল বা চেমোমাইল আমেরিকান বা ব্রিটিশ যে ইংরেজিতেও ডাকা হোক না কেন, এই ছোট ছোট ফুলের গুণে আপনার ঘুম হবে নিশ্চিন্তে। আর রাতের পর রাত যারা যে কোনও কারণেই হোক যখন ঘুমোতে পারেন না, তাদের হজম সহ নানা গন্ডগোল হতে পারে। এই ইঁদুরদৌড়ের যুগে তাদের কাছে ক্যামোমাইল যে মুশকিল আসান তা বলাই বাহুল্য।

আচ্ছা আপনাকে আয়রন, ভিটামিন ‘এ’ বা ‘সি’, ক্যালসিয়াম, কপার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক ইত্যাদি লম্বা লিস্টের ওষুধ খেতে হয় ? এত মুঠো মুঠো ওষুধ খেতে আপনার ভালো লাগে না হয়তো।  ট্রাই করুন জাফরান ফুল।  হ্যাঁ , যে জাফরান আমরা বিরিয়ানি পোলাওয়ে দিই, সেই জাফরান ফুলই এত রকম উপাদানে সমৃদ্ধ।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!