অপহরণ মামলায় আটজনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
রাজধানী বংশালের ইমরান নামের একজনকে অপহরণের পর তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় করা মামলায় আটজনের ১০ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাহসিন ইফতেখারের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় আসামি সাজ্জাদ হোসেনের বেকসুর খালাস দেন আদালত।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-মো. জুয়েল মিয়া, মো. বাপ্পি, তানজিদ শিকদার ওরফে প্রান্ত, সাঈদ হোসেন হোসেন ওরফে রনি, মো. আব্দুল্লাহ রাহিম ওরফে সবুজ, নুরুল ইসলাম ওরফে রবিন, মো. ইমরান হোসেন ও মো. গোলাম হোসেন ওরফে রাকিব।
আদেশে বলা বলা হয়, দণ্ডবিধির ৩৬৪ ধারায় আট আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর এবং ৩৮৫ ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে চলবে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২ জুলাই মামলার বাদী আতিকুর রহমানের দোকান বন্ধ করে বাসায় আসার পর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তার চাচাতো ভাই আসলাম জানান যে, ভাতিজা ইমরান হোসেন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ফুল গাছ লাগানোর জন্য মাটি আনতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। এরপর রাত ১১টার দিকে আসলামকে কল দিয়ে জানায়, ইমরান আমাদের কাছে আছে। তবে তিন কোটি টাকা দিলে ইমরানকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে দেব। যদি এ ব্যাপারে থানা পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ইমরানকে মেরে ফেলবো বলে হুমকি দেয়। এরপর রাত ১২ টার দিকে পুনরায় ফোন দিয়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এসময় আসলাম বলে, অল্প কিছু টাকা হলে দিতে পারতাম। এতোগুলো টাকা কীভাবে যোগাড় করব। তখন তারা জানান, আগামীকাল সকাল ৮ টার ভেতরে আমাদের নির্দেশ মোতাবেক সুবিধাজনক স্থানে না পৌঁছালে তোমার ছেলেকে মেরে ফেলবো। তখন আসলাম নিজের ছেলের কথা চিন্তা করে ৮০ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। এরপর অপহরণকারীরা আসলামকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন জিঞ্জিরা ফেরিঘাটে নৌকার মধ্যে টাকা রেখে আসতে বলে। তারপর আসলাম নৌকার ভেতর কাগজ ভর্তি ব্যাগ রেখে আসে। এসময় অপহরণকারী রনি টাকা নিতে আসলে র্যাব তাকে আটক করে।
এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার তথ্য মতে আরো ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভুক্তভোগী ইমরানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার চাচা আতিকুর রহমান বাদী হয়ে বংশাল থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মৃধা ২৫ জনকে সাক্ষী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এরপর ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ১০ আসামির বিরুদ্ধে ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন। এ মামলার বিচার চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে মোট ২১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।