শিশুতোষ গল্প কেন সম্পাদনা করবেন
লেখকদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সম্প্রতি বেশ কিছু শিশুতোষ গল্পের সম্পাদনার কাজ করেছি। সম্পাদনার পর সেই গল্পগুলো খুব দ্রুত প্রথম সারির জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হয়েছে এবং বই হিসেবে প্রকাশের জন্য নির্বাচিত হয়েছে৷
'শিশুতোষ গল্প লেখার পর কেন অভিজ্ঞ সম্পাদকের সাহায্যে সম্পাদনা করা প্রয়োজন' তা সবাইকে জানানো জরুরি মনে করছি।
১. বয়স অনুযায়ী শব্দ ও বাক্য: শিশুরা বয়স অনুযায়ী শব্দ শেখে। সম্পাদক নিশ্চিত করেন যেন গল্পের শব্দ ও বাক্য নির্দিষ্ট বয়সী শিশুদের জন্য সহজ ও উপযোগী হয়।
২. ভুলহীন বানান ও ব্যাকরণ: শিশুরা গল্পের বই পড়েই নতুন বানান শেখে। তাই সম্পাদক লেখাকে একদম বানান ও ভুলমুক্ত করে তোলেন।
৩. গল্পের গতি ধরে রাখা: ছোটদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। সম্পাদক গল্পের অপ্রয়োজনীয় অংশ ছেঁটে ফেলে এর গতি ও আকর্ষণ ঠিক রাখেন।
৪. চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা: গল্পের চরিত্রগুলো যেন শিশুদের কাছে একদম সত্যি ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, সম্পাদক সেটি ভালোভাবে যাচাই করেন। অযৌক্তিক ভুল থাকলে তা ঠিক করেন।
৫. শিশুদের মনস্তত্ত্ব: ছোটদের জগৎ বড়দের চেয়ে আলাদা। গল্পের বিষয়বস্তু শিশুদের মনে যেন কোনো খারাপ প্রভাব না ফেলে, সম্পাদক তা খেয়াল রাখেন।
৬. আনন্দদায়ক নীতিশিক্ষা: ছোটদের গল্পে নীতিশিক্ষা থাকা ভালো। তবে সেটি যেন একঘেয়ে উপদেশের মতো না শোনায়, সম্পাদক তা নিশ্চিত করেন।
৭. ছবি আঁকার সুবিধা: সম্পাদিত গল্পের দৃশ্যগুলো খুব স্পষ্ট থাকে। নির্দিষ্ট সংখ্যক দৃশ্য রেখে সেটি ভারসাম্য করতে হয়। ফলে ইলাস্ট্রেটররা খুব সহজেই গল্পের মেজাজ বুঝে সুন্দর ছবি আঁকতে পারেন।
৮. লেখকের দক্ষতা বৃদ্ধি: সম্পাদকের গঠনমূলক সংযোজন ও বিয়োজনগুলো লেখককে সচেতন করে। এতে ভবিষ্যতে আরও ভালো লেখার দক্ষতা তৈরি হয়।
৯. পত্রিকায় প্রকাশের সুযোগ: পত্রিকার সম্পাদকেরা গোছানো গল্প পছন্দ করেন। সম্পাদিত গল্প পাঠালে তা সহজেই প্রথম সারির জাতীয় পত্রিকার শিশুতোষ পাতায় জায়গা পায়।
১০. প্রকাশকদের আগ্রহ: নিখুঁত পাণ্ডুলিপি পেলে প্রকাশকরা লুফে নেন। সম্পাদকের হাত ঘুরে আসা লেখা দ্রুত প্রকাশ করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।