মদনে মৃত ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাৎ
নেত্রকোনার মদনে মৃত্যুর তিন মাস পর মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে স্কুলের বিল-ভাউচারে জাল স্বাক্ষরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
উপজেলার গোবিন্দশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউর হকের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. জগৎ মিয়া ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তার মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় তাকে উপস্থিত দেখিয়ে বিল-ভাউচারে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মৃত ব্যক্তি কীভাবে মৃত্যুর তিন মাস পর সভায় উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর করলেন— এ নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ইয়াসমিন আক্তারসহ স্থানীয় ১৩ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউর হক বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।"
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, "অভিযোগটি আমিও পেয়েছি। বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে তদন্তাধীন রয়েছে।"
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক।