কেউই ফেরেন না মুক্তিপণ ছাড়া!
কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের পাশে পাহাড়গুলো এখন মিয়ানমার থেকে আসা এই জনগোষ্ঠীর সন্ত্রাসীদের নিরাপদ ডেরায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব পাহাড় ঘিরে সক্রিয় রয়েছে অন্তত ১২টি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ। তারা খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধে যুক্ত। রোহিঙ্গারাসহ টেকনাফের স্থানীয়রাও নির্যাতিত হচ্ছে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে।
তারা আরো জানান, বর্তমানে উখিয়া টেকনাফের ৩২টি আশ্রয় শিবিরে নতুন-পুরাতন মিলে সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। এরমধ্যে টেকনাফে রয়েছে সাতটি আর উখিয়ায় ২৫টি রোহিঙ্গা শিবির। বিশেষ করে টেকনাফের শিবিরগুলোর পাশে রয়েছে উঁচু উঁচু দুর্গম পাহাড়। ফলে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ডেরা হিসেবে এসব পাহাড়কে বেছে নিয়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো।
.png)
টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরের বাসিন্দা মো. কাশেম জানান, ২৬ ও ২৭ নম্বর ক্যাম্পের পাশে যে পাহাড় রয়েছে, সেখানে অনেকগুলো সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। এ সন্ত্রাসীরা মাঝে মধ্যে শিবিরে এসে রোহিঙ্গাদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর অসহায় রোহিঙ্গারা মুক্তিপণ দিয়ে তাদের কাছ থেকে ছাড়া পান। মুক্তিপণ না পেলে আটক রোহিঙ্গাদের কেউই বেঁচে ফেরেন না।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত এসপি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রুপ সক্রিয় থাকার খবরটি আমাদের কাছেও রয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। রোহিঙ্গা হোক কিংবা স্থানীয় সন্ত্রাসী হোক কোনো ছাড় দেবে না পুলিশ। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে সব সময় পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
এর আগে সোমবার উপজেলার মুছনি ও জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সাত ডাকাত নিহত হন। তারা সবাই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ জাকির বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে র্যাব। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর র্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে একই বাহিনীর ইলিয়াস নামে আরেক সদস্য নিহত হন।