চিত্রনায়িকা বাঁধনের খোঁজ নিতে তার বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
চিত্রনায়িকা আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে ইতালিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনার পর দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার পর এবার তার ও পরিবারের খোঁজ নিতে বাসায় গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বাঁধনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তিনি বাসায় যান বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাঁধন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, তার এই আন্তরিকতা, সৌজন্য ও দায়িত্বশীলতায় তিনি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি তার আস্থা আরও দৃঢ় করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
.png)
বাঁধন আরও বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে নাগরিকের আস্থার জায়গাটিও আরও শক্তিশালী হয়।’
ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, সরকারপ্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগসহ দেশে-বিদেশে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তার ও পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান এই অভিনেত্রী।
পোস্টে বাঁধন আরও লিখেছেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধের গুরুত্ব নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে। মতের পার্থক্য থাকলেও একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইতালিতে বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। সেই ঘটনার পর সোমবার দেশে ফেরেন তিনি। আর আজই তার সঙ্গে দেখা করে পরিবারের খোঁজ নেওয়ার বিষয়টিকে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার নিদর্শন হিসেবে দেখছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন আজমেরী হক বাঁধন। উৎসব প্রাঙ্গণে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া, ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং পানি ও ডিম ছোড়ার মতো হয়রানির অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী। ঘটনার সময় তাকে রাজনৈতিক স্লোগান দিতেও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।