ইয়েমেনে ২৭৫০ হামলার দাবি, ১৪০০ হুথি যোদ্ধা নিষ্ক্রিয়
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭৫০টির বেশি হামলা চালিয়ে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছে তারা। একই সময়ে ২৫০টির বেশি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাধিব যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আল-নাধিব বলেন, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর আওতায় বিভিন্ন রণাঙ্গনে হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। হুথিদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় হুথিদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির চৌকি, কামানের অবস্থান, অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদাম এবং সরবরাহকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ ছাড়া হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার গভীরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং সেনা ও সরঞ্জাম পরিবহনের পথেও হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযানের প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরে আল-নাধিব দাবি করেন, এতে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন। পাশাপাশি ২৫০টির বেশি সামরিক যান ও যুদ্ধের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার দাবি, এসব হামলার ফলে হুথিদের সেনা চলাচল, রসদ সরবরাহ এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহায়তা পৌঁছানোও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
আল-নাধিব আরও জানান, সরকারি বাহিনীর স্থলসেনারা হুথিদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান পুনর্দখল করেছেন। দখলে নেওয়া এলাকাগুলোতে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত সোমবার ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরুর ঘোষণা দেন। তার ঘোষিত লক্ষ্য হলো রাজধানী সানা পুনর্দখল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার এবং হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত করা।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই থেকে দেশটিতে সংঘাত চলছে; এখনো এর স্থায়ী সমাধান হয়নি।