হরমুজ খুলতে শর্ত মানার দাবি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব বলে জানিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তেহরান।
.png)
প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং লেবাননসহ একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়েছিল।
তবে ট্রাম্প শনিবার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান চাপের মুখে এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে আরাগচি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা বললেও মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রত্যাখ্যানের বার্তা পায়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমক বা জবরদস্তি’ মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জলপথটি দিয়ে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবহন হওয়ায় এর কার্যক্রমে বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।