আমি আমার স্ত্রী আর তিনটা বাচ্চা নিয়ে আরব আমিরাতের ছোট্ট শহর রাস আল খাইমাতে বাস করছি। গত তিনদিন ধরে প্রতিনিয়ত মিসাইল, ড্রোন যুদ্ধ বিমানের শব্দে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বড় মেয়েটার জ্বর, ছোট মেয়েটারও ১০২ ডিগ্রির ওপর। গত পরশু রাত নির্ঘুম কাটাতে গিয়ে আমার স্ত্রীরও মাইগ্রেনের ব্যথা গত রাত থেকে। গত রাত কেটেছে সবার নির্ঘুম। মিসাইল ড্রোন যেন মাথার উপর দিয়ে যায়। আজ সকালে আমার শহরে দুই তিন জায়গায় ড্রোন আক্রমণের খবর পেয়েছি।
বাজারে সব ধরনের সবজি, চাল, মশলার দাম বেড়ে গেছে। আগে যে পেঁয়াজ ১-২ দিরহাম এ পাওয়া যেত, সেটা এখন ছয়-সাত দিরহাম। ফ্লাইট বন্ধ তাই কিছুই আসছে না। প্রধান পোর্ট জেবেল আলিতে হামলা হয়েছে, পোর্টও বন্ধ। ওমান থেকে কিছু সবজি আসত, ওমানে হামলার পর তাও বন্ধ। এভাবে চলতে থাকলে কী হবে তা ভাবতে গা শিওরে উঠে।
.png)
ছোটখাট কন্ট্রাক্টিং ব্যবসা করি। কাজ বন্ধ না হলেও পেমেন্ট বন্ধ হয়ে আছে। সামনে ঈদ। আমাদের জন্যে ঈদ না আসলেও তো বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারতের জন্যে ঈদ আসবে। কোম্পানির কর্মচারীরা এই তিন দেশের। তাদের পরিবার তো অপেক্ষায় আছে তাদের প্রবাসী সন্তান, পিতা, স্বামী কিংবা ভাইয়ের পাঠানো টাকায় ঈদ উদযাপন করবে। কিন্তু বিল না পেলে যে তাদের সেলারি দেওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে!
বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালসের ব্যবসা আছে একটা। গত তিনদিন হতে সেল নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। অথচ দোকান স্টোর ভাড়া, কারেন্ট বিল সব সচল আছে। গত এক-দুই মাসে সাপ্লাইয়ারদের যে চেক দেওয়া আছে, এই মাসের বিভিন্ন ডেট এ সেগুলোর কী হবে? এখনো মাথার উপর উড়ে যাচ্ছে মিসাইল, যুদ্ধ বিমান ভয়ানক শব্দে উড়ে যাচ্ছে মিসাইল নিস্ক্রিয় করতে। আর আমি ভাবছি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে। ভাবছি আমার টিকে থাকা নিয়ে। হঠাৎ তিনটা মোবাইলে বেজে উঠে ইমার্জেন্সি এলার্ট।