এদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। ফলে জানুয়ারি পর্যন্ত বৈরুতের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল যে, তারা দক্ষিণ ইসরায়েলের আশদোদ নৌ ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু করেছে। তেল আবিবের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ।
.png)
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেল আবিবসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠেছে। তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ টিকভা, নাহারিয়া এবং হাইফায় লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে গোষ্ঠীটি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মতে, লেবানন থেকে ইসরায়েলজুড়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
দুটি সামরিক স্থাপনাসহ বেশ কয়েকটি ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলায় ইসরায়েলের সবচেয়ে জনবহুল এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্র এবং নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নিয়েছে।
ইসরায়েলের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ক্ষেপণাস্ত্রকে আটকাতে পারেনি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত কিছু লোককে চিকিৎসা করা হয়েছে। অন্তত একজনকে গুরুতর বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের একটি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, এটি আশা করা হচ্ছে যে আলোচনা গোলাগুলির মধ্যে অব্যাহত থাকবে এবং বৈরুতে হামলার বিপরীতে তেল আবিবকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের রাজধানীতে ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় মিডিয়া অনুসারে, লেবাননের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারি পর্যন্ত বৈরুতে স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে।
রোববার দেইর কানুন রাস আল-আইন গ্রামকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলার স্থান থেকে ধোঁয়া উঠছে
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, টায়ার জেলার জিবকিন শহরে এই মারাত্মক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে ভয়ঙ্কর যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী টায়ার অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালানোর পরে সর্বশেষ হামলা এটি।
অপরদিকে উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে নতুন করে হামলা চালিয়েছে হানাদার ইসরায়েলি বাহিনী। একটি হামলার একদিন পর এই হামলায় দুইজন নিহত এবং অবরুদ্ধ পরিষেবা পরিচালকসহ ১২ জনেরও বেশি চিকিৎসা কর্মী আহত হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়। ওই সময় বন্দি করা হয় ২০০ জনেরও বেশি। এরপর থেকে গাজাজুড়ে অব্যাহত হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৪৪ হাজার ২১১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এ পর্যন্ত আহত হয়েছে এক লাখ চার হাজার ৫৬৭ জন।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে তিন হাজার ৭৫৪ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৬২৬ জন আহত হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা