মধ্যপ্রদেশ পুলিশ বলছে, মেয়েটির কিশোর ভাই মোবাইল ফোনে পর্ন ভিডিও দেখার পর তাকে যৌন নির্যাতন করে। এরপর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তাদের মা ও বড় দুই বোন ২৪ এপ্রিলের ভয়াবহ এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই কিশোরকে সহায়তা করে বলে তদন্তে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ তার বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেন তারা।
মামলা হওয়ার পর পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ওই বাড়িতে বাইরের কারো প্রবেশের কোনো চিহ্ন খুঁজে পায়নি এবং পরিবারও এ ধরনের কোনো দাবি করেনি। প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংগ্রহ এবং ৫০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর, পুলিশ দেখতে পেল পরিবারের সদস্যদের বিবৃতি বারবার পরিবর্তন হচ্ছে।
.png)
এতে সন্দেহ হলে তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মা এবং ১৭-১৮ বছর বয়সী দুই বড় বোন গোপনে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে সাহায্য করার কথা স্বীকার করে।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই রাতে ১৩ বছর বয়সী ছেলেটি নিজের বোনের পাশে শুয়েছিল এবং সে তার মোবাইল ফোনে পর্ন দেখার পর বোনকে ধর্ষণ করেছিল। বোনটি বলেছিল সে বাবাকে সব বলে দেবে, এই হুমকির পর ছেলেটি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে সে তার মাকে ঘুম থেকে তুলে ঘটনাটি জানায়। কিন্তু তিনি মেয়েকে জীবিত দেখতে পান। এই পর্যায়ে ছেলেটি আবার তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ততক্ষণে তাদের অপর দুই বোন জেগে উঠে, তারা ভাইকে বাঁচাতে এবং তদন্তকে ভুল পথে পরিচালিত করার জন্য বিছানার জায়গা পরিবর্তন করে নেয়।
পরিবারের লোকজন একটি প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে মেয়েটির মরদেহ নিয়ে যায়। সেখানে মা দাবি করে, মেয়েটিকে একটি বিষাক্ত পোকা কামড়েছে। সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে দিলে তারা মরদেহটি একজন সরকারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়, ওই ডাক্তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’ বলে চিহ্নিত করেন।
পুলিশ জানায়, ছেলে ও তার অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি