প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাফাহের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আল আওদা মসজিদের পাশে ট্যাংকগুলো জড়ো করা হয়েছে। এ ঘটনায় অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের বড় ধরনের স্থল হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, সেনারা রাফা শহরে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সেখানে ট্যাংক জড়ো করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আইডিএফ। তবে জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, রাফাতে ‘নিরাপদ এলাকা’ বলে ঘোষিত আশ্রয়শিবিরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নারী।
.png)
এর আগে রোববার রাতে রাফায় নিরাপদ ঘোষিত অঞ্চলে শরণার্থী তাঁবুতে হত্যাযজ্ঞ চালায় ইসরায়েল। তাল আস-সুলতান এলাকায় বিমান হামলায় ২৩ নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধসহ অন্তত ৪৫ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের অনেকে জীবন্ত পুড়ে মারা যান। শিশুদের দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। আইসিজের আদেশ মেনে রাফায় অভিযান বন্ধের আহ্বান জানায় জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ। আলজেরিয়ার আবেদনে এ নিয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকও আহ্বান করা হয়।
রাফায় তাঁবুতে আশ্রয় নেয়া লোকজনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, বহু বেসামরিক নাগরিক নিহতের এ ঘটনায় আমি ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি। এসব মানুষ প্রাণঘাতী এ সংঘাত থেকে বাঁচতে শুধু সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, গাজায় কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। এ ভয়াবহতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
কিন্তু আইসিজের আদেশ ও রোববারের হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় বৈশ্বিক নিন্দা উপেক্ষা করে রাফায় হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্য রাফার আল-আওদা মসজিদের কাছে ইসরায়েলি ট্যাংকের উপস্থিতি দেখা গেছে। ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো পশ্চিম রাফার আরো ভেতরে ঢুকে পড়েছে। কিছু ট্যাংক পশ্চিম রাফার জুরুব এলাকায় পাহাড়ি উঁচু জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। সেখানে হামাসসহ ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর লড়াই চলছে।