বিশ্বে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে। ২০২৩ সালেও বিশ্বব্যাপী কয়েকটি মারাত্মক ভূমিকম্প হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছে বহু মানুষ, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
একনজরে দেখে নেয়া যাক গত কয়েক বছরে বিশ্বে ঘটে যাওয়া কিছু ভয়াবহ ভূমিকম্প
৭ অক্টোবর ২০২৩: ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে আফগানিস্তানে ১ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। নিহতদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। ঐ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল জিনদাজান জেলা, হেরাত শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ইরান সীমান্তের কাছে।
.png)

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩: ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প মরক্কোর মারাকেশের সাফি অঞ্চলে আঘাত হানে। মরক্কোর ভূমিকম্পের ইতিহাসে গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি ছিল এটি। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মারাকেশ থেকে ৭১.৮ কিলোমিটার (৪৪.৬ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে আটলাস পর্বতমালার ইঘিল শহরের কাছে। এ ঘটনায় ২ হাজার ৯৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ মানুষ মারা গেছে মারাকেশের বাইরে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয় তখন।
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩: একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে স্থানীয় সময় রাত ৪টা ১৭ মিনিটে আঘাত হানে। যার ফলে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তুরস্ক ও সিরিয়ায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৭ ও সিরিয়ায় ৭.৬ মাত্রার।
২২ জুন ২০২২: পূর্ব আফগানিস্তানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১ হাজার মানুষ নিহত এবং ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিল।
১৯ আগস্ট ২০২১: হাইতিতে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল। এ ঘটনার পর হাইতির কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ৬ লাখ মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হয়।

২৬ নভেম্বর ২০১৯: আলবেনিয়ায় ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত হয়েছিল এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়।
৫ আগস্ট ২০১৮: ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৪৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ভূমিকম্পে বাড়িঘর, মসজিদ এবং দোকান সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ফলে ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮: ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে ১.৫ মিটার সুনামি হয় এবং ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
১২ নভেম্বর ২০১৭: ৭.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ২০১৭ সালে ইরান-ইরাক সীমান্তে আঘাত হানে। ইসরায়েল এবং উপসাগরজুড়ে ভূমিকম্পে ৪৪০ জন নিহত এবং ১০ হাজার আহত হয়েছিল।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭: ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৩৬৯ জন মারা যায় মেক্সিকো সিটি এবং এর আশপাশের অঞ্চলে। সেপ্টেম্বরের ভূমিকম্পটি ছিল ৮.১ মাত্রার। যা এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

২৪ আগস্ট ২০১৬: মধ্য ইতালিতে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২৯৮ জন নিহত হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে অ্যামাট্রিসে। যেখানে শহরের অনেক ঐতিহাসিক ভবন ধসে পড়ে। ভূমিকম্পের পর গৃহহীনদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল ইতালির সরকার।
১৬ এপ্রিল ২০১৬: ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ইকুয়েডরের উপকূলে আঘাত হানে। এতে ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং ১৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়। এ ছাড়া প্রায় ৭ হাজার ভবন ধ্বংস হয়েছিল।
২৬ অক্টোবর ২০১৫: উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়। নিহতদের বেশিরভাগই পাকিস্তানের। তবে ভূমিকম্পটি উত্তর ভারত এবং তাজিকিস্তানেও অনুভূত হয়।
২৫ এপ্রিল ২০১৫: ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প নেপালে আঘাত হানে। এতে ৮ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। ১৯৩৪ সালের পর থেকে নেপালে আঘাত হানার সবচেয়ে খারাপ প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল। দেশের কিছু অংশে ভূমিকম্পের আঘাতে পাহাড়ি গ্রামের সমস্ত বাড়ি ৯৮ শতাংশ সমতল হয়ে যায়।

৩ আগস্ট ২০১৪: চীনের ইউনান প্রদেশে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৬০০ জন নিহত হয়েছিল। হাজার হাজার ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল।
১৫ অক্টোবর ২০১৩: ফিলিপাইনের বোহোল এবং সেবুতে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩: পাকিস্তানের প্রত্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের আওয়ারান জেলায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ৩০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছিল।
২০ এপ্রিল ২০১৩: চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশে শক্তিশালী ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১৬০ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৫ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছিল।
১১ আগস্ট ২০১২: উত্তর-পশ্চিম ইরানে তাবরিজ এবং আহার শহরের কাছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে ২৫০ জন নিহত এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল।

২৩ অক্টোবর ২০১১: দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১ হাজার মানুষ আহত হয়েছিল। বেশ কয়েকটি ভবনও ধসে পড়েছিল।
১১ মার্চ ২০১১: ৮.৯ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্প জাপানে আঘাত হানে। এতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল বা নিখোঁজ ছিল। কম্পনটি জাপানের উপকূলে বিশাল সুনামির সৃষ্টি করে। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিলের পর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিপর্যয় হয় সেই ভূমিকম্পে জাপানে।
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১১: ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যায়। এতে ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং প্রায় ১ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৪ এপ্রিল ২০১০: চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় কিংহাই প্রদেশে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। একই বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পূর্ব মধ্য চিলির কনসেপসিওনেতে ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।

১২ জানুয়ারি ২০১০: হাইতির রাজধানী এবং এর আশপাশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৯: ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।
১২ মে ২০০৮: চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের ভূমিকম্পে ৮৭ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছিল। এছাড়া ৩ লাখ ৭০ হাজার আহত হয়েছিল। ৭.৮ মাত্রার কম্পনটি প্রাদেশিক রাজধানী চেংডু থেকে ৫৭ মাইল (৯২ কিলোমিটার) দূরে বিকেলে আঘাত হেনেছিল।
১৫ আগস্ট ২০০৭: সালে দক্ষিণ-পূর্বে পেরুর উপকূলীয় প্রদেশ ইকাতে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১৯ জন নিহত হয়েছিল।
১৭ জুলাই ২০০৬: ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ান দ্বীপে ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।

৮ অক্টোবর ২০০৫: ৭.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প উত্তর পাকিস্তান এবং বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলে আঘাত হানে। যাতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় এবং লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। ২৮ মার্চ সুমাত্রার পশ্চিমে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ নিয়াসের উপকূলে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় এক হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছিল।
২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৫: ইরানের কেরমান প্রদেশের জারন্দের কাছে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছিল।
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৪: মরক্কোর ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের শহরগুলোতে ভূমিকম্পে অন্তত ৫০০ মানুষ মারা গিয়েছিল। ২৬ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে ভূমিকম্পে দক্ষিণ ইরানের ঐতিহাসিক বাম শহর ধ্বংস হয়ে যায় এবং ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।
২১ মে ২০০৩: স্পেনে সমুদ্রজুড়ে অনুভূত ভূমিকম্পে ২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় এবং ৮ হাজারের বেশি আহত হয়।
২৬ জানুয়ারী ২০০১: ৭.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে উত্তর-পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্যের বেশির ভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। প্রায় ২০ হাজার মানুষ মারা যায় তখন। এ ছাড়া ১ মিলিয়নের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।