ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশু নিহতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৫০, ২৩ নভেম্বর ২০২৩
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশু নিহতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় গত দেড় মাসে ৬ হাজারেরও বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ সময় ৪ হাজারের বেশি নারীসহ মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৩২ জনে।

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলা এ হামলায় আহত হয়েছেন ৩৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। যাদের মধ্যে নারী ও শিশুদের হার ৭৫ শতাংশের ঊর্ধ্বে।

Advertisement

দখলদার ইসরায়েল বাহিনীর অভিযানে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা ছাড়াও গত দেড় মাসে গাজায় অন্তত ২০৫ জন ডাক্তার-নার্স, ২৫ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও ৬৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ।

এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে গাজার প্রশাসনিক কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর গত দেড় মাসের গোলা বর্ষণে উপত্যকার ৪৫ টি বাসভবন ১০২ টি সরকারি ভবন, ২৬৬ টি স্কুল এবং ৮৫ টি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার বাসভবন, ১৭৪ টি মসজিদ এবং ৩ টি গির্জা।

এছাড়া গাজার ২৬ টি হাসাপাতাল এবং ৫৫ টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। ৫৬টি অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করেও হামলা করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে প্রশাসনিক কার্যালয়।

এদিকে জ্বালানীর ঘাটতির কারণেও অনেক অনেকগুলো অ্যাম্বুলেন্স অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বাজার এবং বাণিজ্যিক দোকানগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য এবং বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর ঘাটতিতে ভুগছে। যেখানে বেকারিগুলোর কার্যক্রমও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ এবং ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী সশস্ত্র সংঘাতে নিহত শিশুর মোট সংখ্যা মাত্র কয়েক সপ্তাহে গাজায় যত শিশু নিহত হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় গড়ে প্রতি ১০ মিনিটে একজন শিশু নিহত হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের ওপর বহু বছর ধরে চলে আসা গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে গত ৭ অক্টোবর ভোরে ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। উপত্যকার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত বেড়া ভেঙে ইসরায়েলে প্রবেশ করে তারা। শতাধিক ইসরায়েলিকে হত্যার পাশাপাশি জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যায় ২৪২ জনকে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, এই জিম্মিদের মধ্যে ইসরায়েলিদের সংখ্যা ১০৪ জন। বাকি ১৩৮ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিকরা রয়েছেন।

হামাসের এই হামলার জবাবে ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। ১৬ অক্টোবর থেকে সেই অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।

কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি চার দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে হামাস এবং ইসরায়েলের সরকার। আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হবে এই যুদ্ধবিরতি।

সূত্র: আনাদলু এজেন্সি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!