ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

টকশো উপস্থাপিকার পোশাক দেখে ক্ষেপে গেলেন ইসরায়েলি কর্মকর্তা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:২১, ৩০ অক্টোবর ২০২৩
টকশো উপস্থাপিকার পোশাক দেখে ক্ষেপে গেলেন ইসরায়েলি কর্মকর্তা!
শ্রেয়া ধুন্দিয়াল ও ফ্রেডারিক ল্যান্ডোস - ফাইল ছবি

ভারতীয় এক টেলিভিশনের লাইভ টকশোয় লাল-কালো-সবুজ রঙের শাড়ি পরেছিলেন উপস্থাপিকা। তার ওই শাড়ির রং দেখেই ক্ষেপে যান টকশোর অতিথি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, শাড়ির রং ফিলিস্তিনের পতাকার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় উপস্থাপককে নানাভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন তিনি।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠি হামাসের আকস্মিক অভিযানের পর গাজা উপত্যকায় নির্বিচার বিমান হামলা শুরু করে দখলদার ইসরায়েল। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে অব্যাহত রয়েছে তা। ইসরায়েলের এই হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে হাসপাতাল, স্কুল ও মসজিদও। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর গাজার আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে নৃশংস হামলা চালা ইসরায়েল। যে হামলায় নারী ও শিশুসহ ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। যার ফলে বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনার মুখে পড়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার।

ভয়াবহ ওই হামলার পরদিন অর্থাৎ গত ১৮ অক্টোবর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে একটি টকশোর আয়োজন করে ভারতীয় টিভি চ্যানেল মিরর নাও

Advertisement

লাইভ টকশোটি পরিচালনা করছিলেন মিরর নাও-এর নির্বাহী সম্পাদক ও উপস্থাপিকা শ্রেয়া ধুন্দিয়াল। এতে অতিথি হিসেবে অংশ নেন ফিলিস্তিনের এক আইন কমিটির চেয়ারম্যান হিবা হুসেইনি। তার বিপরীতে ছিলেন ইসরায়েলের বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য ফ্রেডারিক ল্যান্ডোস।

টকশোতে লাল পাড়ের সবুজ শাড়ি পরেছিলেন উপস্থাপিকা শ্রেয়া ধুন্দিয়াল। তার সঙ্গে পরেছিলেন কালো রঙের ব্লাউজ। যা ফিলিস্তিনের পতাকার রঙের সঙ্গে মিলে যায়। আর এতেই আপত্তি ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফ্রেডারিক ল্যান্ডোসের। শাড়ির রং দেখেই তিনি রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

লাইভ টকশোতেই ফ্রেডেরিক ল্যান্ডোস উপস্থাপিকার শাড়ির রঙ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, আপনি আজ বিশেষ রঙের পোশাক পরেছেন। আপনাকে দেখেই ইচ্ছাকৃতভাবে আমিও নীল ও সাদা রঙের (ইসরায়েলের পতাকার রং) পোশাক পরে এসেছি। কারণ আপনি সবুজ, কালো ও লাল রঙের শাড়ি পরেছেন। তবে আপনি যতই সবুজ, কালো ও লাল রঙের শাড়ি পরিধান করুন না কেন, নীল ও সাদা সবসময় ওপরেই থাকবে।’

তার এ কথার জবাবে শ্রেয়া ধুন্দিয়াল বলেন, ’রঙের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি আরো বলেন, এটি তার প্রয়াত দাদির শাড়ি। আর তার দাদী চলমান ইসরায়েল-হামাস সংঘর্ষ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে তার বয়স আজ ১০৫ বছর হত।

তিনি আরো জানান, ’শাড়ির রঙ কোনোভাবে কোনো দলের প্রতি সমর্থন বোঝায় না। যদিও গাজায় চলমান সংঘাত ও ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে বোমা হামলায় ৫০০ জনের মৃত্যু একটি অপরাধ।’

উপস্থাপকে এই কথায় আরো চরম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা লান্ডোস। এমনকি তিনি উপস্থাপিকাকে শাড়িটি অন্য কোনো অনুষ্ঠানে পরার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘এটা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে পরার জন্য তুলে রাখুন।’

অতিথির এমন অনধিকার চর্চা ও পরামর্শের জবাবে উপস্থাপিকা শ্রেয়া তার শান্ত গলাতেই বলেন, তিনি কী পোশাক পরবেন বা কী বলবেন তা বলে দেয়ার অধিকার তার (ইসরায়েলি গোয়েন্দা) নেই। তিনি সেটাই বলবেন যা বলা উচিত এবং যা তিনি দেখছেন।

এরপর ওই লাইভ টকশোর একটি ভিডিও ক্লিপ নিজের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন শ্রেয়া। ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন ‘আমার প্রয়াত দাদির শাড়ি আমার আজকের অনুষ্ঠানের ইসরায়েলি অতিথিকে হতাশ করেছে। আমার কোনো কিছু বলার ভাষা নেই।’

ভিডিওটি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে এটি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। কয়েকদিনেই ভিডিওটি অর্ধলাখের বেশি ভিউ হয়েছে। কমেন্ট পড়েছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি। এতে উপস্থাপিকা শ্রেয়াকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা। অন্যদিকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করেছেন টকশোর অতিথি ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফ্রেডারিক ল্যান্ডোসকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!