ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

চুরিকাণ্ডে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পরিচালকের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:২৩, ২৭ আগস্ট ২০২৩
চুরিকাণ্ডে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পরিচালকের পদত্যাগ
হার্টউইগ ফিশার - ফাইল ছবি

বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে বিভিন্ন সময়ে চুরি হওয়া দেড় হাজারেরও বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেছেন এর পরিচালক হার্টউইগ ফিশার। একইসঙ্গে দায়িত্ব থেকে সাময়িক ইস্তফা দিয়েছেন তার ডেপুটি জোনাথন ইউলিয়ামসও।

বেশ কয়েক বছর ধরে চুরির বিষয়টি নিয়ে হুইসেলব্লোয়াররা সতর্ক করলেও কোনোভাবেই তা ঠেকাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। শেষমেষ দুই শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় তৈরি হয়েছে আরো অচলাবস্থা।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পরিচালক হিসেবে সাত বছর দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করলেন হার্টউইগ ফিশার।

তিনি বলছেন, চুরির বিষয়ে ‘মিউজিয়াম সর্বসম্মতভাবে সাড়া দেয়নি’, যেটি ২০২১ সালে তথ্য-প্রমাণের নথিপত্র দাখিলের সময় করা উচিত ছিল।

ফিশারের পদত্যাগের ঘোষণার তিন ঘণ্টা পর তার ডেপুটি জোনাথন উইলিয়ামস জানান, ওই ঘটনায় ব্রিটিশ মিউজিয়ামের চেয়ারম্যান জর্জ অসবোর্ন নির্দেশিত স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছায় তিনি স্বাভাবিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন।

ফিশার এসব ঘটনায় হুইসেলব্লোয়ারদের একজন ড্যানিশ পুরাকীর্তি বিশেষজ্ঞ ইটাই গ্রেডেলের উপর কিছু দোষ চাপানোর ঘটনায় ‘দুঃখপ্রকাশ’ করেন। গ্রেডেল তথ্য গোপন করেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

ফিশার বলেন, তার এ মন্তব্য ‘ভুল বিচার করা হয়েছে’ এবং সেগুলো তিনি প্রত্যাহার করছেন৷

বিবিসি জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে চুরিকাণ্ডে ভুল তদন্তের বিষয়টি সামনে আসার পরই পরিচালক ফিশারের পদত্যাগ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে যা কিছু ঘটেছে তা ঠিক করে মিউজিয়ামে আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন চেয়ারম্যান জর্জ অসবোর্ন।

ফিশার ও তার ডেপুটি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে মিউজিয়ামকে সংকটের পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এই পরিস্থিতিকে ‘অস্থির সময়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আপাতত অস্থিরতার এই পরিস্থিতি সামলাতে এখন একজন অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালক নিয়োগ করতে হবে তাকে।

পরিচালক ফিশার বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে আমি ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে চুরির ঘটনা ও সেগুলোর তদন্তের বিস্তারিত পর্যালোচনা করছি। এটি স্পষ্ট যে ২০২১ সালে চুরির বিষয়ে সতর্কতামূলক যে প্রতিক্রিয়া দেখানোর দরকার ছিল, সেটি পুরোপুরি করা হয়নি। আর সেখান থেকেই আজকের সমস্যা।’

‘এই ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত পরিচালকের উপরই বর্তাবে। এক সপ্তাহ আগে গ্রেডেল সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছি, সেটি আমি ভুল ধারণা থেকে করেছি। আন্তরিকভাবে আমি দুঃখ প্রকাশ করতে চাই এবং এই মন্তব্যগুলো প্রত্যাহার করতে চাই।’

ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে খ্রিস্টপূর্ব পনের শতক থেকে খ্রিস্টাব্দ উনিশ শতক সময়ের মূল্যবান কিছু প্রত্নসামগ্রী নিখোঁজ ও চুরির অভিযোগে এক কর্মীকে বরখাস্ত করা হয় গত সপ্তাহে।

এসব উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বর্ণালঙ্কার, রত্নপাথর ও গ্লাস। সেগুলো মিউজিয়ামে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। বেশিরভাগ সামগ্রীই অ্যাকাডেমিক ও গবেষণার কাজে একটি স্টোর রুমে সংরক্ষিত ছিল।

সিএনএন জানায়, ঐতিহাসিক এই উপাদানগুলোর হদিস না মেলায় এক কর্মীকে বরখাস্তের পাশাপাশি লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সংগ্রহশালা থেকে মূল্যবান প্রত্ন সামগ্রী উধাও হওয়ায় বিস্মিত ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পরিচালক হার্টউইগ ফিশার বলেবন, ঘটনাটি ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’।

সেসময় তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। খুঁজে না পাওয়া সামগ্রীগুলো ফিরিয়ে আনতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইতোমধ্যে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। পাশাপাশি কোন কোন সামগ্রীর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বা চুরি হয়ে গেছে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব পেতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছি।’

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের চেয়ারম্যান অসবর্ন বলেন, ব্রিটিশ মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের প্রথম কাজ এখন চুরি যাওয়া সামগ্রীগুলো উদ্ধার করা, এমন ঘটনা রোধে পদক্ষেপ খুঁজে বের করা এবং এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না তা নিশ্চিত করা।

চুরি হওয়া কিছু নিদর্শন উদ্ধার

এদিকে ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে যে ২ হাজার ঐতিহাসিক নিদর্শন চুরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, যার কিছু আবার এরইমধ্যে উদ্ধার করাও শুরু হয়েছে।

শনিবার মিউজিয়ামের চেয়ারম্যান জর্জ অসবোর্ন বিবিসি রেডিও ফোর এর টুডে অনুষ্ঠানে বলেছেন, চুরি সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘আরো কিছু করা হতে পারে’।

মিউজিয়ামের সংরক্ষিত নিদর্শনের কিছু চুরির ঘটনায় গত সপ্তাহে এক কর্মীকে বরখাস্ত এবং এর পরিচালক ও তার ডেপুটির দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার খবরের মধ্যেই হারানো কিছু জিনিস উদ্ধারের খবর মিলল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!