শনিবার (৫ আগস্ট) দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইদলিবের উপকণ্ঠে এই হামলা চালানো হয় বলে একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রাশিয়া অনেক দিন ধরেই সিরিয়ার প্রধান বিরোধীদের শেষ ঘাঁটিতে বারবার হামলা করেছে। তবে জুনের শেষের দিকে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। এর আগ পর্যন্ত হামলায় বেসামরিক লোকদের হত্যা এ বছর সীমিত ছিল।
.png)
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, শহরের পশ্চিমে ‘শনিবার সকালে রাশিয়ার বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে...এবং ছয়জন আহত হয়েছে’, উদ্ধারকারী দল এখনো ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ করছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
সিরিয়ার মাটিতে সূত্রের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল ব্রিটেনভিত্তিক গ্রুপটি জানিয়েছে, এদিন চারটি হামলা ওই এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে বিদ্রোহীদের ঘাঁটিও রয়েছে।
রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার যুদ্ধের শুরুর দিকে বিদ্রোহীদের কাছে হারানো বেশির ভাগ অঞ্চল ফিরে পেয়েছে।
শান্তিপূর্ণ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন একটি মারাত্মক সংঘাতে পরিণত হলে সিরিয়ার ১২ বছরের দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু হয়, যা বিদেশি শক্তি ও বৈশ্বিক জিহাদিদের কাছে টেনে নেয়।
যুদ্ধে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা গেছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে ২০২০ সাল থেকে দামেস্কের মিত্র মস্কো ও বিদ্রোহী সমর্থক আংকারার মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। পর্যায়ক্রমিক সংঘর্ষ সত্ত্বেও সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমে মূলত এ যুদ্ধবিরতি পালিত হয়েছে।
এদিকে সহিংসতার বৃদ্ধিতে রাশিয়ার বিমান হামলায় ২৫ জুন ইদলিব প্রদেশে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছিল।
পর্যবেক্ষক সংস্থাটি সে সময় সে হামলাকে দেশটিতে চলতি বছরের এ ধরনের সবচেয়ে মারাত্মক হামলা হিসেবে অভিহিত করেছিল। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুসহ অন্তত ৯ বেসামরিক লোক ছিল।
উল্লেখ্য, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বাস, তাদের প্রায় অর্ধেকই দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।