আফ্রিকার এই দেশটির উত্তরাঞ্চলে গত বৃহস্পতিবার দু’টি মারাত্মক হামলা ও প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার (৯ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার উত্তর বুরকিনা ফাসোতে দু’টি মারাত্মক হামলায় প্রায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দেশটির নাইজার সীমান্তের কাছে সাহেল অঞ্চলের কৌরাকাউ এবং টন্ডোবি গ্রামে এই জোড়া হামলার ঘটনা ঘটে।
.png)
অবশ্য কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এখনো এই হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেনি। তবে ওই এলাকায় সহিংসতা খুবই সাধারণ বিষয় এবং কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’কে দায়ী করেছেন। মূলত আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সাথে যুক্ত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে।
একজন বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, হামলার সময় ‘বিশাল সংখ্যক সন্ত্রাসী গ্রামে ঢুকে পড়ে’ এবং তিনি সারা রাত ধরে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমরা দেখি, রাতে হওয়া হামলায় কয়েক ডজন মানুষ মারা গেছে।’
আরো পড়ুন>> নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ৭৪ জন নিহত
সংবাদমাধ্যম আরো জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে গবাদি পশু চুরির চেষ্টাকারী দুই সন্ত্রাসীকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতের এই হত্যাকাণ্ডটি সেতেঙ্গা গ্রামের কাছে ঘটে, যেখানে গত জুন মাসে কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছিলেন।
বিবিসি বলছে, বুরকিনা ফাসো এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলো ২০১৩ সাল থেকে জিহাদি বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছে। সংকটের সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সহিংসতার কারণে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলায় রীতিমতো সংগ্রাম করছে বুরকিনা ফাসো। সশস্ত্র এসব গোষ্ঠীগুলোর বেশিরভাগই জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দা এবং আইএস’র সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এছাড়া গত এক দশকে আফ্রিকার এই দেশটিতে সহিংসতা অনেক বেড়েছে এবং জোরালো হয়েছে। আর এতে প্রতি বছর হাজার হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি