এদিকে দেশটিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। জান্তা বাহিনী ও গণতন্ত্রপন্থি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মধ্যে চলছে তীব্র লড়াই।
২০২০ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের সংসদীয় নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, নির্বাচনে জালিয়াতি করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথগ্রহণের দিন অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির কুখ্যাত সেনাবাহিনী।
.png)
শুধু তাই নয়, এনএলডির নেত্রী সু চিকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়। গত দুই বছরে সেসব মামলায় এখন পর্যন্ত তাকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন>> বর-প্রেমিক উভয়কেই চাই, অদ্ভুত দাবি নিয়ে থানায় হাজির নববধূ
ক্ষমতাগ্রহণের পরই এক বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নেতৃত্বাধীন জান্তা সরকার। তবে সেই প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করেনি। চলতি বছরের শেষ দিকে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
জান্তার অধীনে এই নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অবাধ হবে না বলে মনে করছে মিয়ানমারের জনগণ। এ বিষয়ে একই কথা বলে আসছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই। সেই আশঙ্কাই ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।মিয়ানমার ক্রমেই একটি অর্থহীন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
মিয়ানমারের সামরিক সরকার গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির দল এনএলডি’সহ ৪০টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করেছে।
শুধু তাই নয়, দলগুলো পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অথচ ২০২০ সালের নভেম্বর সবশেষ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিল সু চির এনএলডি।
আরো পড়ুন>> প্রথমবারের মতো গাছের ছত্রাকে আক্রান্ত হলো মানুষ
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেনা সরকার দ্য স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল (এসএসি) নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশন (ইউইসি) রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে নতুন একটি করে।
এরপর এক ঘোষণায় জানায়, নতুন আইনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে। জানানো হয়, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু সু চির এনএলডিসহ ৪০টি রাজনৈতিক দল নতুন করে নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে সেনাবাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিসহ (ইউএসডিপি) সরকারপন্থি ৫০টি দল নিবন্ধন করেছে। এ ছাড়া নতুন করে আরও ১৩টি দলও নিবন্ধিত হওয়ার জন্য আবেদন করেছে।
আরো পড়ুন>> কবরের ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ, জীবিত উদ্ধার হলো নারী!
জান্তা সরকার এখনও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে শেষ পর্যন্ত ঘোষণা করা হলেও কারা সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে আর কারা পারবে না তা ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
সামরিক নেতৃত্ব সম্ভবত কখন ও কীভাবে নির্বাচন করা যেতে পারে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের একটি নতুন ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী সমর্থিত নির্বাচন কমিশনের পক্ষে একটা অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন অসম্ভব হবে বলেই মনে হচ্ছে।
পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন হলেও তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। উল্টো চলমান বিক্ষোভের মধ্যে এই নির্বাচন রক্তপাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে শঙ্কা তাদের।
সূত্র: এশিয়া টাইমস