২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং। আর এবার জান্তাবিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে চূর্ণ করার অঙ্গীকার করেছেন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান এবং সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
এর সঙ্গে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নেয়া সকল পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড’ বলেও অভিহিত করেছেন তিনি। সোমবার (২৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বিখ্যাত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
.png)
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর লড়াইকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করার পাশাপাশি তাদেরকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া তার সরকারের মানবাধিকার রেকর্ডের সমালোচনাকারী দেশগুলোকে সন্ত্রাসের সমর্থক হিসেবেও অভিযুক্ত করেছেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
আরো পড়ুন>> জর্ডান থেকে ব্যবসা সড়িয়ে নিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারের থেকে ক্ষমতার দখল নেয়ার পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে অব্যাহত আছে। দীর্ঘসময় ধরে চলাকালীন এই সংঘর্ষে এই পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজের ঘড়-বাড়ী হারিয়েছেন।
মিন অং হ্লাইং নেপিডোতে সামরিক কুচকাওয়াজে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বলেন, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী তাদের শাসনের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ করবে না, যাই হোক না কেন। এবং জান্তা বিরোধীদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
মিয়ানমারের এই সেনাপ্রধান আরো বলেন, ‘মানুষের স্বার্থ নষ্ট করতে চায় এমন সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ শহরে’ সামরিক আইন ক্রমবর্ধমানভাবে জারি করা হয়েছে। মিয়ানমারে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ‘বিজয়ী দলের’ কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। চলমান সংঘাতের কারণে ওই নির্বাচন ঠিক কখন অনুষ্ঠিত হবে তা
এখনো স্পষ্ট নয়।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চীনা কে৮ গ্রাউন্ড অ্যাটাক এয়ারক্রাফট এবং এফটিসি২০০০ জেটের পাশাপাশি রাশিয়ান এমআই৩৫ গানশিপ এই কুচকাওয়াজে প্রদর্শন করা হয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এই অস্ত্রগুলোর বেশিরভাগই বিদ্রোহীদের ঘাঁটি ধ্বংসে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে প্রায়শই বেসামরিক মানুষ এমনকি শিশুদেরও হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: বিবিসি